যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করতে হবে


জাতীয় কণ্ঠ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৩, ৭:২০ অপরাহ্ন /
যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করতে হবে
নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে যুব সমাজকে পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করতে হবে। সেই সঙ্গে যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রিসোর্স (রসদ) সরবরাহ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় যুবকল্যাণ তহবিল থেকে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জন্য নির্বাচিত ৬৪ জেলার সর্বোত্তম যুব সংগঠনের প্রতিনিধিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় স্পিকার বলেন, যুবকরাই জাতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উৎপাদনে যুবকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে যুব সমাজকে পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু আজীবন শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন বলেই কর্মঠ যুব সমাজ গঠনের মতো বাস্তবধর্মী চিন্তা করতে পেরেছিলেন।

তিনি বলেন, যুবকদের উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় রিসোর্সও সরবরাহ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ যুবকদের কর্মে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিভিন্ন অনুদান প্রদান করে আসছেন। এ লক্ষ্যে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে বাজেটও প্রণয়ন করা হচ্ছে।

শিরীন শারমিন বলেন, ৯০০টি যুব সংগঠনের মধ্যে ৪৫৮টি নারী সংগঠনসহ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের সংগঠনকেও অনুদান দেওয়া হচ্ছে, যা একটি অনন্য উদ্যোগ। পাঁচ কোটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর এ মানবসম্পদকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যেন নারী পুরুষ একইসঙ্গে অগ্রসর হতে পারে। তাহলেই আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের সম্পূর্ণ সুবিধা নিতে সক্ষম হব।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, করোনাভাইরাস মহামারিতে যারা সমাজে স্বেচ্ছায় সেবা দিয়েছেন, ২০২২ সালে তাদের ‘শেখ হাসিনা ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভলান্টিয়ার সার্ভিসের জন্য পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি এখনো চলমান রয়েছে। ‘শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন ইন্সটিটিউট’র ডিপ্লোমা কোর্সের মাধ্যমে যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে যুবকল্যাণ তহবিল থেকে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জন্য নির্বাচিত ৯০০টি যুব সংগঠনকে মোট ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এসময় যুব কল্যাণ তহবিলের কার্যক্রমের ওপর একটি অডিও ভিজ্যুুয়াল প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পিকারকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এ বিশেষ প্রোগ্রাম আয়োজনের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান স্পিকার।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব কাজী মোস্তাক জহির। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মহিউদ্দিন আহমেদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম খান এবং ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জাকিয়া তাবাসসুম জুঁই, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ড. মো. আব্দুল করিম, বিকেএসপির মহাপরিচালক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশের ৬৪ জেলার যুব সংগঠক ও প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত অতিথি ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।