ফেব্রুয়ারিতে এনবিআর’র রাজস্ব সম্মেলন


জাতীয় কণ্ঠ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৯, ২০২৩, ৩:৪৪ অপরাহ্ন /
ফেব্রুয়ারিতে এনবিআর’র রাজস্ব সম্মেলন
নিউজটি শেয়ার করুন

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের আদলে প্রথমবারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন এবং মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া ওই দিন আগারগাঁও-এ নবনির্মিত রাজস্ব ভবনও উদ্বোধন করবেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী ৪-৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) রাজস্ব সম্মেলন হবে। উদ্বোধনের পর সম্মেলন সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। একইদিন দুপুরে হবে ভ্যাট বিষয়ক সেমিনার।

দ্বিতীয় দিন সকালে আয়কর বিষয়ক এবং বিকালে কাস্টমস বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ৬টি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে রাজস্ব সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে এনবিআর। এগুলো হচ্ছে-অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ, দেশীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণ এবং রপ্তানি প্রসারে এনবিআরের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জানানো। সরকারি সংস্থা, অংশীজন এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

অংশীজনদের বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। এছাড়া আছে-খাতভিত্তিক বিনিয়োগের লক্ষ্যে বিদ্যমান কর রেয়াতি সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহে সরকারি সংস্থার ভূমিকা তুলে ধরা, এনবিআরের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জগুলো খুঁজে বের করা এবং তা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ করা।

রাজস্ব সম্মেলন শিল্প উদ্যোক্তা, সরকারি দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা, বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা, উন্নয়ন অংশীজন এবং আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট অনুবিভাগের সহকারী পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অংশ নিতে পারবেন। এ সম্মেলনে ভ্যাট, কাস্টমস, আয়কর অনুবিভাগের পৃথক বুথ থাকবে। এসব বুথে অংশগ্রহণকারীরা তাদের ব্যবসাসংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

ভ্যাট বুথে অনলাইনে নিবন্ধন, অনলাইন রিটার্ন দাখিল, খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইসের (ইএফি) ব্যবহার এবং ভ্যাট পরিশোধের জন্য ই-পেমেন্ট সম্পর্কে জানতে পারবেন। আয়কর প্যাভিলিয়নের ই-টিআইএন, এ-চালান, হাতেকলমে ই-রিটার্ন পূরণ এবং ই-পেমেন্টে কর পরিশোধ শেখানো হবে। এছাড়া কোম্পানির অডিট রিপোর্ট যাচাই করতে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) এবং ই-টিডিএস (উৎসে কর) সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।

কাস্টমস প্যাভিলিয়নের কাস্টমসের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড, কাস্টমসের ডিজিটাল সেবা যেমন শুল্কায়নের অ্যাসাকুডা ওয়ার্ল্ডের ব্যবহার, ই-অকশন ও ই-পেমেন্ট পদ্ধতি দেখানো হবে।

প্রথম দিন দুপুরে বাংলাদেশের ভ্যাট ব্যবস্থা নিয়ে ৪টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। এগুলো হলো- বাংলাদেশের ভ্যাট ব্যবস্থার অতীত ও বর্তমান, জাতীয় উন্নয়নে ভ্যাটের ভূমিকা, ডিজিটাল প্লাটফর্মে ভ্যাট ব্যবস্থা এবং ব্যবসা ও খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট আদায় কার্যক্রম। প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকবে। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা ভ্যাট সম্পর্কিত নিজের জিজ্ঞাসার কথা জানতে পারবেন। এরপর উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হবে। দ্বিতীয় দিন সকালে আয়কর অনুবিভাগের অতীত ও বর্তমান, অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় আয়করের ভূমিকা, আয়কর আইনের একশ বছরপূর্তি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। ওইদিন দুপুরে বাংলাদেশ কাস্টমসের অতীত ও বর্তমান, পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কাস্টমস, বাংলাদেশ কাস্টমসের আধুনিকায়নের অগ্রযাত্রা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কাস্টমসের ভূমিকা শীর্ষক ৪টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে।

দুটি সেশনেই প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকবে। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজের জিজ্ঞাসার কথা জানতে পারবেন। এরপর উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। বাংলাদেশেও সেই আঁচ লেগেছে। পরিবর্তিত এ প্রেক্ষাপটে রাজস্ব আহরণে কাস্টমস, আয়কর ও ভ্যাট কর্মকর্তাদের নিত্যদিনই নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কীভাবে লক্ষ্য অর্জন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে নীতির বা প্রশাসনিক পরিবর্তন প্রয়োজন হলে সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে। মূলত মাঠ পর্যায়ে কর্মরতদের কথা শুনতেই রাজস্ব সম্মেলন। তাদের কাছ থেকে চ্যালেঞ্জ, প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনার কথা শুনে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে না পারলে আগামী বাজেটে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।