অন্ত্রকে অনেক সময় ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ বলা হয়। কারণ অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে রয়েছে সরাসরি সংযোগ। তাই অন্ত্র ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আঁশ কিংবা ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। কারণ সুস্থ অন্ত্র মানেই ভালো হজম, শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক সুস্থতা।
এ বিষয়ে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টরা জানান, নিয়মিত ফাইবার গ্রহণই গাট ও মেটাবলিক স্বাস্থ্যের অন্যতম পূর্বাভাস। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কয়েকটি নির্দিষ্ট আঁশযুক্ত খাবার রাখলে অন্ত্র সুস্থ থাকে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগ, কোলন ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
পাঁচ ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে জেনে নিন—
১. কাঁচাকলা
কলা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চে সমৃদ্ধ, যা উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়। এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। প্রতিদিন একটি মাঝারি আকারের কাঁচাকলা খাওয়ার পরামর্শ দেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টরা।
২. চিয়াসিড
চিয়াসিড নিয়মিত মলত্যাগ সহজ করে এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি বজায় থাকে। প্রতিদিন এক-দুই টেবিল চামচ চিয়াসিড দই কিংবা স্মুদির সঙ্গে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ চিয়াসিডে রয়েছে প্রচুর দ্রবণীয় আঁশ, যা অন্ত্রে জেলির মতো পদার্থ তৈরি করে হজম প্রক্রিয়া ধীর করে।
৩. ডাল ও শিমজাতীয় খাবার
মসুর ডাল, ছোলা, রাজমা ইত্যাদিতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের আঁশই থাকে। এগুলো অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের জন্য উপকারী। প্রতিদিন আধা থেকে এক কাপ সেদ্ধ ডাল বা শিমজাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
৪. ব্লুবেরি ফল
ব্লুবেরি ও রাস্পবেরি আঁশ ও পলিফেনলে সমৃদ্ধ। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়ক। প্রতিদিন আধা থেকে এককাপ বেরি খাওয়া উপকারী।
৫. বাদাম
আখরোট কিংবা কাঠবাদামে রয়েছে আঁশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর চর্বি। এগুলো অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বাড়াতে সাহায্য করে এবং মেটাবলিক স্বাস্থ্যে সহায়ক। প্রতিদিন একমুঠো বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিয়মিত আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে হজমজনিত নানা সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ খাদ্য আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখে, প্রদাহ কমায় এবং প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে আপনার সুস্থ অন্ত্র ও সুস্থজীবনের চাবিকাঠি— এমনটিই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

