১১ ফেব্রু ২০২৬, বুধ

অবসরে গেলেন ৬০৮ দিন মহাকাশে কাটানো নভোচারী সুনীতা

অবশেষে মহাকাশযাত্রার দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়ের ইতি টানলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস। নাসায় ২৭ বছরের কর্মজীবন শেষে গত ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বর্তমানে সুনীতার বয়স ৬০ বছর।

১৯৯৮ সালে নাসায় যোগ দেওয়া সুনীতা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ তিনটি অভিযান সম্পন্ন করেছেন। সব মিলিয়ে তিনি মহাকাশে কাটিয়েছেন ৬০৮ দিন, যা নাসার ইতিহাসে মহাকাশচারীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময়।

২০০৬ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবার মহাকাশে যান সুনীতা। স্পেস শাটল ডিসকভারিতে চড়ে তিনি নাসার এক্সপিডিশন ১৪/১৫ অভিযানে ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই অভিযানে চারটি স্পেসওয়াক করে বিশ্বরেকর্ডও গড়েন তিনি।

২০১২ সালে দ্বিতীয়বার মহাকাশে গিয়ে ১২৭ দিনের অভিযানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন সুনীতা উইলিয়ামস।

২০২৪ সালে তাঁর তৃতীয় ও শেষ মহাকাশযাত্রা ছিল বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানে। সহযাত্রী ছিলেন মার্কিন নভোচারী বুচ উইলমোর। মাত্র ১০ দিনের অভিযানে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ১০ মাস মহাকাশে আটকে থাকতে হয় তাঁদের। অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চে, মোট ২৮৬ দিন পর পৃথিবীতে ফেরেন দু’জন।

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সুনীতার অবদানকে স্মরণ করে বলেন,’মানববাহী মহাকাশ অভিযানে সুনীতা উইলিয়ামস একজন পথিকৃৎ। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দক্ষ নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের পথ প্রশস্ত করেছেন তিনি। তাঁর কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে।’

পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সুনীতা ফ্লরিডার মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি যোগ দেন মার্কিন নৌবাহিনীতে। হেলিকপ্টার ও ফিক্সড-উইং বিমানে ৪০টির বেশি উড়োজাহাজে ৪,০০০ ঘণ্টারও বেশি উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

কর্মজীবনে তিনি মোট ৯টি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেছেন, যার মোট সময় ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট। এটি যেকোনো নারী নভোচারীর মধ্যে সর্বোচ্চ। মহাকাশে ম্যারাথন দৌড়ানো প্রথম মানুষও ছিলেন সুনীতা উইলিয়ামস।

অবসর প্রসঙ্গে সুনীতা বলেন,’যাঁরা আমাকে চেনেন, তাঁরা জানেন মহাকাশ আমার কতটা প্রিয়। মহাকাশচারী হতে পারা এবং তিনবার মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। নাসায় ২৭ বছরে সহকর্মীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি, তা আমি আজীবন মনে রাখব।’

নাসার আসন্ন আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসতে হাসতে তিনি বলেন,’যেতে তো চাই, কিন্তু আমার স্বামী আমাকে মেরে ফেলবেন!’

তারপর যোগ করেন,’এবার ঘরে ফেরার সময়। মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে পরবর্তী প্রজন্মই এবার তাদের জায়গা করে নিক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *