প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে জনস্রোত দেখা যায়। ভ্রমণপিপাসুরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ছোটেন দর্শনীয় স্থানগুলোতে। এবার জ্বালানি তেলের সংকটে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিয়ে বিপাকে পড়ার শঙ্কায় জনস্রোত কিছুটা কম হতে পারে বলে ধারণা করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এর পরও এবার ঈদে সরকারি ছুটির সাত দিনে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় থাকবে। বিশেষ করে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সিলেট, পার্বত্য এলাকা ও হাওড়াঞ্চলে পর্যটকের ঢল নামতে পারে। অধিক জনসমাগমে নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এজন্য ছুটির সময়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, প্রতারণা ও ইভ টিজিংয়ের মতো ঘটনা প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম পরিচালনা, মোবাইল টিম মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সারা দেশের পর্যটন কেন্দ্রে থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। যদিও ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল ও সরঞ্জামসংকট এবং বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে অপরাধ কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা হুমকি উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছেন, দেশে ১ হাজার ৬৭৫টি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে যেসব স্পটে জনসমাগম বেশি হয়, সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ রকম ৩৩ জেলার ১০৭ পর্যটন স্পটে পর্যটকের নিরাপত্তায় থাকবে প্রায় দেড় হাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ। ইতোমধ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ সদও দপ্তর থেকে সব রিজিয়ন অফিসে ২০ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যটন এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, হেল্পডেস্ক স্থাপন, সৈকত এলাকায় উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার তৎপরতার জন্য অ্যাম্বুলেন্সসহ একটি টিম প্রস্তুত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। পর্যটকদের তথ্যসেবা নিশ্চিত করা। পানিতে গোসলের সময় পর্যটক যেন কোনোরকম দুর্ঘটনার সম্মুখীন না হন সে বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনার জন্য হ্যান্ডমাইক ব্যবহারের ব্যবস্থা করা। প্রচুর পর্যটকসমাগমে সুযোগসন্ধানী অপরাধীরা যেন কোনো ধরনের নাশকতা বা চুরি, ছিনতাই এবং ডাকাতি ঘটাতে না পারে সেজন্য পর্যটন এলাকায় দিনে ও রাতে পুলিশ প্যাট্রলিং জোরদার করাসহ সিসিটিভিতে মনিটরিং করা। পর্যটকদের যেন হকার, হিজড়া, ইভটিজাররা উৎপাত করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে মনিটরিং অব্যাহত রাখা। যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অন্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় স্থাপন।

