১৫ এপ্রি ২০২৬, বুধ

একটি যুগ নিয়ে চলে গেলেন আশা ভোসলে: মুনমুন

ভারতে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলের মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের হাওয়া বইছে। বিনোদন থেকে শুরু করে গোটা উপমহাদেশের বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ এ গুণী সংগীতশিল্পীর প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। এর মধ্যেই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রিয়াংকা চোপড়া, উদিত নারায়ণ, এআর রহমান, অলকা ইয়াগনিক থেকে শুরু করে অভিনেত্রী কাজল, শাহরুখ খান, প্রসেনজিৎ প্রমুখ। এবার টালিউডে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মুনমুন সেন এ কিংবদন্তিকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন। জানালেন দীর্ঘদিন কাছ থেকে দেখা তার মনের কথা।

মুনমুন বলেছেন, আমার স্বামী ভরত দেব বর্মন ত্রিপুরার রাজবাড়ির ছেলে। ওর কাকা শচীন দেব বর্মন। তার ছেলে রাহুল দেব বর্মন। অর্থাৎ ভরত আর রাহুল আত্মীয়তাসূত্রে ‘তুতো’ ভাই। আমরা যখনই মুম্বাইয়ে যেতাম, তখনই আমার স্বামীর জন্য রান্না করা মাছ আসত দেব বর্মন বাড়ি থেকে। তা যত্ন করে টিফিন ক্যারিয়ারে নিজের হাতে ভরে দিতেন আশাজি। এরপর একবার আশাজি এলেন কলকাতায়, আমাদের বাড়িতে। একাই এলেন।

তিনি বলেন, আমাদের বাড়িতে এসে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলেন গোটা বাড়ি। আমাদের বাড়িতে শচীন দেব বর্মনের ছবি সুন্দর করে সাজানো ছিল। সেসব দেখতে দেখতে উনি বলে উঠলেন—পঞ্চম কেন শচীন দেব বর্মনের ছবি তোমাদের তো করে সাজিয়ে রাখেনি! তোমরা কত সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছ।

অভিনেত্রী বলেন, আমি কিছু বলিনি সেদিন। ওই দিন থেকে সম্পর্কটা যেন আরও গভীর, আরও আন্তরিক হয়ে গেল। ওই একটা দিনের কিছু কথা বদলে দিল আমার সম্বোধন। আমি আশাজিকে ‘বউদি’ বলে ডাকা শুরু করলাম। তিনি বলেন, আমার বউদি খুব সাদামাটা। খুব জ্ঞানী। সেই জ্ঞানের দৃঢ়তা কখনো-সখনো প্রকাশ পেত তার কথায় এবং তার আচরণে। বউদি সাদা শাড়ি পরতে ভালোবাসতেন খুব। সব অনুষ্ঠানে খুব সুন্দর করে শাড়ি পরতেন। ওর ফ্যাশন নিয়েও সেই সময়ে কম আলোচনা হয়নি।

আবেগঘন কণ্ঠে অভিনেত্রী বলেন, আমার অবশ্য সেসব ছাপিয়ে ওর মুখ, ওর গানের কথাই বেশি মনে পড়ছে। এই যে এত গান গেয়েছেন, সেসব সুর, যেন আঁচলে বেঁধে চলে গেলেন। সেই সুর সেই সময়কে আর তো খুঁজে পাব না। আর ফিরে পাব না আমরা কোনো দিন।

মুনমুন বলেন, আমাদের প্রায়ই দেখা হতো। মুম্বাই গেলে কিংবা বিমানে চড়ে যাতায়াতের সময়েও। একবার আশা বউদি বলেছিলেন—দুবাইয়ে আমার ভারতীয় রেস্তোরাঁ আছে। তুমি নিশ্চয়ই আসবে। ‘আজ পর্যন্ত সেই নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যেতে পারিনি।

তিনি বলেন, তারপর লম্বা সময় আমাদের সাক্ষাৎ বন্ধ। যেদিন রাহুল চলে গেলেন, সেদিন কাকতালীয়ভাবে আমি মুম্বাইয়ে। খবর পেয়ে দেখা করতে গিয়েছিলাম আশা বউদির সঙ্গে। শোকস্তব্ধ বউদি যেন পাথরপ্রতিমা। কারও সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থাতেই নেই। সবাই আসছিলেন, দেখা করে যাচ্ছিলেন। উনি নীরবে সব দেখে যাচ্ছিলেন। যেন বাহ্যজ্ঞানরহিত! সেই শেষ দেখা আশা বউদির সঙ্গে। আজ (রোববার) সকাল থেকে খুব ব্যস্ত ছিলাম। কিছু কাজ ছিল। খবরটা শোনার পর মনে হলো– একটা যুগ নিয়ে চলে গেলেন আশা ভোসলে।

তিনি বলেন, ওর গাওয়া গান আমার মা সুচিত্রা সেনের ছবিতেও হিট। পরবর্তী সময় আমার ছবিতেও। আরও বড় ব্যাপার—সেসব গানের অনেকগুলোই রাহুল দেব বর্মন বা পঞ্চমের সুর করা। যদিও কোনো দিন সামনে বসে ওর গান শোনার সৌভাগ্য আমার হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *