একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক মহড়া—দুই পথে এগোচ্ছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জেনেভায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা পরোক্ষ বৈঠকে যোগ দিতে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, এই আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রত্যাহার ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করার বিষয় উঠুক। যদিও ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রত্যাহার করবে না।
হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বে যে তেল রপ্তানি হয়, তার প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়। আইআরজিসি জানিয়েছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও সামরিক হুমকির জন্য প্রস্তুত থাকতেই এই মহড়া। মহড়ার সময়সীমা জানানো হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জেনেভায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কারিগরি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, সমঝোতার আশা আছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, চুক্তি করা সহজ হবে না। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফও আলোচনায় যুক্ত আছেন।
এর আগে গত বছরের জুনে ইরানে ইসরায়েলের হামলার পর আলোচনা ভেঙে যায়। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ (উচ্চমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত) ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত আছে বলে জানা গেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, এই কর্মসূচি থেকে পারমাণবিক বোমা তৈরি হতে পারে। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে।

