১০ ফেব্রু ২০২৬, মঙ্গল

একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

সুকুমার বড়ুয়ার কন্যা অঞ্জনা বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় বাবা গত এক সপ্তাহ চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাবার ফুসফুসে পানি জমেছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মারা যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকের পর সুকুমার বড়ুয়ার ডান পা অবশ হয়ে যায়। এর পর থেকে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন।

সুকুমার বড়ুয়া ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন।

১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে ছয় টাকায় বেড়ার ঘর ভাড়া করে স্বাধীনভাবে লেখালেখি শুরু করেন। কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর ও মুকুলের মাহফিলে তার লেখা ছাপা হতে থাকে। ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসরে যান।

প্রায় ৬০ বছর ধরে ছড়া লিখে সুকুমার বড়ুয়া ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’ ইত্যাদি নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন। ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক, নৈতিক শিক্ষামূলক রচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক বার্তাও তার লেখায় এসেছে।

পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’, ‘নানা রঙের দিন’, সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘নদীর খেলা’, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াসম্ভার (২ খণ্ড), ‘যুক্তবর্ণ’, ‘চন্দনার পাঠশালা’, ‘জীবনের ভেতরে বাইরে’ সুকুমার বড়ুয়ার উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই।

সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *