২৩ ফেব্রু ২০২৬, সোম

এলপিজির আমদানি বাড়লেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি

সংকটের মধ্যে চলতি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) আমদানি গত মাসের তুলনায় বেড়েছে। তবে বাজারে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানি বাড়ানোর যে উদ্যোগ তাঁরা নিয়েছিলেন, তা এ মাসের শেষে বন্দরে পৌঁছাবে। তাতে সরবরাহ আরও বাড়বে।

খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমদানি বাড়লেও বাজারে এখনো সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দরে এলপি গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। যেমন ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। ঢাকা ও চট্টগ্রামে এলাকাভেদে ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। গত জানুয়ারিতে তীব্র সংকটের সময় এই ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।

এলপিজি অপারেটর অব বাংলাদেশের ( লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হক গতকাল রোববার  বলেন, এলপি গ্যাস যতটুকু আমদানি হচ্ছে, তাতে ভোক্তা পর্যায়ে সংকট নেই। আমদানিকারকেরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করলেও খুচরা পর্যায়ে দাম বেশি রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছে। এ অবস্থায় বিকল্প উৎস থেকে আমদানি শুরু হয়েছে। ফলে খুব দ্রুত এলপি গ্যাসের সরবরাহ আরও বাড়বে।

ফেব্রুয়ারিতে আমদানি বেড়েছে

চট্টগ্রাম কাস্টমস ও মোংলা কাস্টমসের তথ্যে দেখা যায়, দুই বন্দর দিয়ে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে ( ২১ তারিখ পর্যন্ত) এলপি গাস আমদানি হয়েছে ৯১ হাজার টন। গত মাসে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৬৩ হাজার টন। এ হিসাবে গত মাসের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। এই দুই বন্দরের বাইরে সীতাকুণ্ডের বেসরকারি জেটিগুলোতে প্রতি মাসে ২০-২২ হাজার টন এলপি গ্যাস আমদানি হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত নভেম্বরে এলপি গ্যাসের আমদানি আগের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ কমে যায়। এরপর ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসেও আমদানি বাড়েনি। আমদানি বাড়াতে সরকারের অনুমতি চেয়েও পায়নি মেঘনা গ্রুপ, ডেলটা এলপিজিসহ কয়েকটি কোম্পানি। তাতে জানুয়ারি মাসে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট হয়। গ্যাস-সংকটের কারণে এলপি গ্যাসের চাহিদাও বেড়ে যায়। সংকটে পড়ে ব্যবসায়ীদের আমদানি বাড়ানোর অনুমতি দেয় বিগত অন্তর্বর্তী সরকার।

চট্টগ্রাম, মোংলা ও সীতাকুণ্ডের আমদানির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ১৭ লাখ ৫৪ হাজার টন এলপি গ্যাস আমদানি হয়। প্রতিদিন এলপি গ্যাসের চাহিদা কম-বেশি পাঁচ হাজার টন।

৫৭ হাজার টন এলপিজি আনছে মেঘনার ৫ জাহাজ

লোয়াব সূত্র বলছে, দেশে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসা করে। এর মধ্যে ২৩টি কোম্পানির আমদানির অনুমোদন আছে। চলতি অর্থবছরে আমদানিতে সক্রিয় রয়েছে ১৬টি কোম্পানি। এর মধ্যে ৯টি কোম্পানিই ৯২ শতাংশ এলপি গ্যাস আমদানি করেছে। বাকি ৭টি কোম্পানির আমদানি কম। এর বাইরে বেক্সিমকোসহ অন্তত চারটি কোম্পানির এলপি গ্যাস আমদানি বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সক্রিয় কোম্পানিগুলো আমদানি বাড়াচ্ছে।

জানা গেছে, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে ১০ হাজার টন এলপিজি নিয়ে তিনটি ট্যাংকার আসছে। পাইপলাইনে সবচেয়ে বেশি এলপি গ্যাস রয়েছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ বা এমজিআইয়ের। গ্রুপটির ৫ জাহাজে ৫৭ হাজার টন এলপি গ্যাস চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। এর মধ্যে ২৬ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৪ হাজার টন এলপিজি নিয়ে তিনটি ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছাবে। মার্চের প্রথমার্ধে দুই জাহাজে আসবে ৩৩ হাজার টন। এ ছাড়া ইউনাইটেড আইগ্যাস, যমুনা স্পেকটেক, ওমেরা পেট্রোলিয়ামসহ অন্য কোম্পানিগুলোও আমদানি বাড়িয়েছে।
জানতে চাইলে শীর্ষ আমদানিকারক মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল  বলেন, নিয়মিত উৎসের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মালয়েশিয়াসহ নানা দেশ থেকে এলপি গ্যাস আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দরের পথে থাকা এই এলপি গ্যাস দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে। সরবরাহ আরও বাড়বে।

লোয়াবের নেতারা বলছেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে। তবে খুচরা পর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণ না হলে ভোক্তার ভোগান্তি পুরোপুরি কমবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *