কবরের আজাব যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা আমাদের কল্পনাকেও হার মানায়। তবে দয়ালু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের একা ছেড়ে দেননি। তিনি এমন কিছু আমল শিখিয়ে দিয়েছেন, যা অন্ধকার কবরে আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়াবে।
এর মধ্যে অন্যতম সেরা আমল হলো—প্রতিদিন সুরা মুল্ক পাঠ করা।
ক্ষমার সুপারিশকারী ৩০টি আয়াত
কোরআনের ৬৭ নম্বর এই সুরাটি মাত্র ৩০টি আয়াতের। কিন্তু এর শক্তি অপরিসীম। আল্লাহর রাসুল বলেছেন, “নিশ্চয়ই কোরআনে একটি সুরা আছে যাতে ৩০টি আয়াত রয়েছে। তা পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করতে থাকবে, যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়। সুরাটি হলো, ‘তাবারাকাল্লাযি বি ইয়াদিহিল মুল্ক।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪০০; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯১)
আজাব প্রতিরোধের ‘দেয়াল’
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এই সুরার একটি চমৎকার চিত্র তুলে ধরেছেন। কবরে যখন ফেরেশতারা শাস্তির জন্য পায়ের দিক দিয়ে আসতে চাইবে, তখন পা বলবে, “আমার দিক দিয়ে আসার পথ নেই, কারণ সে সুরা মুল্ক পাঠ করত।” একইভাবে বুক বা মাথা—সব দিক থেকেই এই সুরাটি ফেরেশতাদের বাধা দেবে।
এই কারণেই নবীজির যুগে সাহাবিরা এই সুরাটিকে বলতেন ‘মানেআ’ বা বাধাদানকারী। এটি পাঠকারীকে কবরের আজাব থেকে ঢাল হয়ে রক্ষা করবে। (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৩৮৩৯; সহিহুত তারগিব, হাদিস: ১৫৮৯)
নবীজির নিয়মিত সুন্নত
আল্লাহর রাসুল কতটা গুরুত্ব দিতেন এই সুরাকে? জাবের (রা.) বর্ণনা করেন, “নবীজি কোনো রাতে সুরা মুল্ক ও সুরা সাজদাহ পাঠ না করে ঘুমাতেন না।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯২)
পড়ার সঠিক সময় ও পদ্ধতি
অনেকে মনে করেন এই সুরা কেবল রাতেই পড়তে হয়। এর সঠিক ব্যাখ্যা হলো:
রাতের পাঠ শ্রেষ্ঠ: রাতে ঘুমানোর আগে পাঠ করা সবচেয়ে উত্তম এবং সুন্নাহ সমর্থিত।
দিনের বেলা: বিশেষ কারণে রাতে পড়তে না পারলে দিনের অন্য সময়েও পড়া যায়।
হৃদয়ে ধারণ করা: শুধু তোতাপাখির মতো পড়লেই হবে না; বরং এই সুরার শিক্ষার ওপর ইমান আনা, নিয়মিত তেলাওয়াত করা এবং এর নির্দেশগুলো মেনে চলাই হলো প্রকৃত আমল।
ব্যস্ত জীবনে আমল করার সহজ টিপস
যাদের সুরাটি মুখস্থ নেই বা সময় বের করা কঠিন মনে হয়, তাঁরা নিচের উপায়গুলো অবলম্বন করতে পারেন:
অল্প অল্প করে মুখস্থ: প্রতিদিন মাত্র ১টি করে আয়াত মুখস্থ করলে মাত্র এক মাসেই পুরো সুরা আপনার হৃদয়ে গেঁথে যাবে।
শোনাও ইবাদত: জ্যামে বসে থাকলে বা ঘরের কাজ করার সময় হেডফোনে সুরাটির তেলাওয়াত ও অনুবাদ শুনতে পারেন। বারবার শুনলে এটি দ্রুত মুখস্থ হয়ে যায়।
অর্থ বুঝে পড়া: অন্তত একবার অর্থসহ পড়লে এই সূরার প্রতি আপনার ভালোবাসা ও ভয়—উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
দিনের শেষে বা রাতের নীরবতায় যখন আপনি সুরা মুল্ক তেলাওয়াত করবেন, তখন মনে রাখবেন—আপনি আপনার কবরের জন্য একজন বিশ্বস্ত পাহারাদার তৈরি করছেন।

