২১ ফেব্রু ২০২৬, শনি

পেশাদার ফুটবলে তাঁর পথচলার শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে, ১৭ বছর বয়সে, এই সান্তোসের জার্সিতেই। সেই পথের শেষটা এখন দেখতে পাচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। অবসর নিতে পারেন চলতি বছর শেষে। ব্রাজিলের অনলাইন চ্যানেল কেজ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের এ ভাবনার কথা জানিয়েছেন সান্তোসের এই ফরোয়ার্ড।

সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল থেকে গত বছরের জানুয়ারিতে নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন নেইমার। এ বছরের শেষ পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন ক্লাবটির সঙ্গে। ক্রমাগত চোটে বিপর্যস্ত নেইমার সান্তোসকে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে টিকিয়ে রাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গত ডিসেম্বরে হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করানোয় জানুয়ারিতে ব্রাজিলিয়ান মৌসুমের শুরুতে খেলতে পারেননি। মাঠে ফেরেন গত সপ্তাহে।
নেইমার এ বছর দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে মরিয়া। সে জন্য সবার আগে ফিরতে হবে ব্রাজিল জাতীয় দলে। চোটের কারণে সেটাই করতে পারছেন না দুই বছরের বেশি সময় ধরে। ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমার সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। ক্রমাগত চোট ও ফিটনেস সমস্যায় জাতীয় দলে আর ফিরতে পারেননি। কার্লো আনচেলত্তি গত বছর মে মাসে ব্রাজিল দলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর নেইমারকে জাতীয় দলে ডাকেননি। কিন্তু আনচেলত্তি সব সময়ই বলে এসেছেন, তাঁর জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলা। সে জন্য সবার আগে নেইমারকে পুরো ফিটনেস ফিরে পেতে হবে। বলাবাহুল্য, চোটের কারণে এই শর্ত পূরণ করতে পারেননি নেইমার।
ক্রমাগত এসব চোটই আসলে নেইমারকে তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভাবাচ্ছে। আগামী বছর কী হবে, তা বহু দূরের বিষয়, এ বছরের বাকি সময় নিয়েই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন নেইমার। বিশ্বকাপে খেলতে চান, কিন্তু সেটাও যে কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তা বোঝা গেল তাঁর কথায়। সম্ভবত এ কারণেই অবসরের ভাবনা উঁকি দিয়েছে তাঁর মনে, ‘এখন থেকে কী হবে, আমি জানি না। আগামী বছর নিয়েও কিছু বলতে পারছি না। সম্ভবত ডিসেম্বর এলে অবসর নিতে চাইব। এখন আমি বছর ধরে এগোচ্ছি।’

অর্থাৎ সান্তোসের সঙ্গে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষে অবসর নিতে পারেন নেইমার। ব্যাপারটা যে তাঁর হৃদয়ের ডাকের ওপর নির্ভর করছে, সেটাও বলেছেন, ‘দেখা যাক, আমার মন কী সিদ্ধান্ত নেয়। বছরের শেষ দিকে আমার মন যা বলবে, সেটির ওপরই সব নির্ভর করছে।’
সাও পাওলো চ্যাম্পিয়নশিপে ১৬ ফেব্রুয়ারি ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে সান্তোসের ৬-০ গোলে জয়ের ম্যাচে মাঠে ফেরেন নেইমার। গোল না পেলেও গোল করানোয় ভূমিকা রেখে সান্তোসকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে সাহায্য করেন। চোট ও অস্ত্রোপচারের ধাক্কা কাটিয়ে সেটা ছিল দুই মাসের বেশি সময় পর তাঁর মাঠে ফেরা। ব্রাজিলে নতুন মৌসুমের শুরু থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচ মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। তাঁর এই মাঠে ফেরার বিষয়েও উঠে এসেছে ফিটনেস সমস্যার প্রসঙ্গ। শুনুন নেইমারের মুখেই, ‘দলকে সেরাভাবে সাহায্য করতে আমি ফিরতে চেয়েছি। কিন্তু শতভাগ ফিট হয়ে ফিরতে নিজেকে একটু সংযত রাখতে হয়েছে।’

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ব্রাজিলিয়ান শীর্ষ লিগে অবনমনের শঙ্কায় পড়েছিল সান্তোস। দলকে বাঁচাতে সান্তোসের শেষ তিন ম্যাচে চোট নিয়েই খেলেন নেইমার। তিন ম্যাচেই জিতেছিল সান্তোস এবং তাতে শীর্ষ লিগে টিকে থাকা নিশ্চিত হয় ক্লাবটির। তবে চোট পাওয়ায় সেই সেই লড়াইয়ের মূল্যও দিতে হয় নেইমারকে। এরপরই বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। তখনই প্রশ্ন ওঠে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্কোয়াডে নেইমারকে দেখা যাবে তো?
নেইমার নিজেও সম্ভবত এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। তিনি শুধু জানেন, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এ বছরটা তাঁর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে খেলতে হলে সবার আগে ফিরতে হবে ব্রাজিল দলে, আর সেই কাজ করতে সান্তোসের হয়ে মাঠে নিয়মিত পারফর্ম করতে হবে। নেইমার এর আগে স্বীকার করেন, বিশ্বকাপে খেলতে কার্লো আনচেলত্তির স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া তাঁর জন্য ‘বড় চ্যালেঞ্জ’।
নেইমার কি সেই চ্যালেঞ্জ নিতে পারবেন? এ বিষয়ে কিছু না বললেও তিনি জানেন ২০২৬ সাল সান্তোস, ব্রাজিল দল এবং তাঁর নিজের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি সত্যি সত্যিই এ বছরের ডিসেম্বরে অবসর নিতে চান, তাহলে তার আগে শেষ বেলায় নিশ্চয়ই ভালো করতে চাইবেন। সে লক্ষ্য নিয়েই নেইমার বলেছেন, ‘এ বছরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সান্তোস নয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও। কারণ এটি বিশ্বকাপের বছর। আমার নিজের জন্যও বছরটি সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমি এ মৌসুমে শতভাগ খেলতে চাই।’

ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে নেইমার সর্বোচ্চ গোলদাতা। ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ। পিএসজির হয়েও জিতেছেন লিগ শিরোপা। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপে খেলেছেন নেইমার।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ১১ জুন থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপ ফুটবল। ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিলের প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *