১০ এপ্রি ২০২৬, শুক্র

কিভাবে চিনবেন শজনে না লাজনা খাচ্ছেন?

শজনে ও লাজনা—নাম শুনতে যেমন কাছাকাছি, দেখতে গিয়েও অনেকেই বিভ্রান্ত হন। অনেকের ধারণা, দুটো একই জিনিস। আসলে লাজনা হলো শজনের একটি উন্নত বা আধুনিক জাত। তবে গঠন, ফুল-ফল, স্বাদ এবং চাষপদ্ধতিতে এদের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু স্পষ্ট পার্থক্য।
উদ্ভিদবিদ ও গবেষক জিনিয়া নাসরিনের মতে, অঞ্চলভেদে শজনেকে শজিনা বা মরিঙ্গা বলা হয়, আর লাজনাকে কোথাও রাইখঞ্জন বা বহুপল্লভা নামেও ডাকা হয়। দেখতে মিল থাকলেও বৈশিষ্ট্যে তারা আলাদা।

গাছের গঠন ও উচ্চতা

দেশি শজনেগাছ সাধারণত লম্বা ও সোজা হয়। এটি ১০ থেকে ১২ মিটার বা তারও বেশি উঁচু হতে পারে এবং ডালপালা ওপরের দিকে বিস্তৃত হয়।

অন্যদিকে লাজনা গাছ তুলনামূলক খাটো ও ঝোপালো ধরনের। সাধারণত ৪ থেকে ৬ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকে, ফলে পরিচর্যা ও ফল সংগ্রহ করা সহজ।

কাণ্ড ও ডালপালা

শজনের কাণ্ড শক্ত ও মসৃণ, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি শক্ত কাষ্ঠল গাছে পরিণত হয়। ডাল কেটে মাটিতে পুঁতলেই নতুন গাছ জন্মানো যায়, তাই ডাল থেকেই এর চাষ বেশি হয়।

লাজনার কাণ্ড তুলনামূলক নরম ও মোটা। দ্রুত বাড়লেও এটি শজনের মতো এতটা শক্ত নয়। লাজনাও ডাল থেকে জন্মাতে পারে, তবে সাধারণত বীজ থেকেই চাষ করা হয়।

ফুল ও ফলনের সময়

শজনে মৌসুমি গাছ। বছরে একবার, সাধারণত বসন্তের শেষে ফুল ও ফল ধরে। ফুল ফোটার সময় গাছের পাতা প্রায় ঝরে যায় এবং পাতাহীন অবস্থাতেই ডাঁটা ধরে।

লাজনা বারোমাসি প্রকৃতির। বছরে দুইবার বা অনেক ক্ষেত্রে সারা বছরই ফুল ও ফল পাওয়া যায়। এর ফুল শজনের তুলনায় ছোট, রং গাঢ় ঘিয়ের মতো এবং পাপড়িতে লালচে দাগ থাকে—যা শজনের ফুলে দেখা যায় না।

আরেকটি বড় পার্থক্য হলো ফলনের সময়। লাজনা গাছে রোপণের ৬-৮ মাসের মধ্যেই ফল আসে, যেখানে শজনে গাছে ফল পেতে প্রায় ২ বছর অপেক্ষা করতে হয়।
ডাঁটার আকার ও স্বাদ

শজনের ডাঁটা লম্বা, চিকন ও সোজা হয়—দৈর্ঘ্যে এক ফুটেরও বেশি হতে পারে। এটি আঁশযুক্ত এবং স্বাদে বেশ সুস্বাদু।

লাজনার ডাঁটা তুলনামূলক ছোট, মোটা ও কিছুটা বাঁকা। রং ধূসর-সবুজ এবং ভেতরটা নরম হলেও বাইরের অংশ শক্ত হয়। স্বাদের দিক থেকে অনেকের কাছে এটি শজনের চেয়ে কম সুস্বাদু, কখনো হালকা তেতোও লাগে।

ঔষধি গুণ

দুটিই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং ঔষধি গুণে ভরপুর। বসন্তকালীন নানা রোগ প্রতিরোধে শজনে ও লাজনা উভয়ই উপকারী।

সব মিলিয়ে, দেখতে কাছাকাছি হলেও শজনে ও লাজনার পার্থক্য বোঝা খুব কঠিন নয়—গাছের গঠন, ফুলের ধরন ও ডাঁটার বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করলেই সহজে চেনা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *