নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় হঠাৎ করে কুকুরের উপদ্রব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।রোববার সকাল থেকে দিনভর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশু ও ১৫ বছরের নিচের কিশোর–কিশোরীর সংখ্যাই বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় ঘুরে বেড়ানো বেশির ভাগ কুকুরই পূর্ণবয়স্ক এবং অনেক ক্ষেত্রে কোনো উসকানি ছাড়াই পথচারীদের ওপর হামলে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের একা বাইরে যেতে দিতে অভিভাবকেরা ভয় পাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কুকুরের উপদ্রব নতুন নয়; তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। তবু এ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
কুকুরের কামড়ে আহত স্থানীয় সাংবাদিক কাওসার তালুকদার বলেন, আমি পৌর শহরের একটি সড়কে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ এসে কুকুর আমাকে আক্রমণ করে মারাত্মক আহত করেছে। পরে উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন পাইনি। অতিরিক্ত মূল্যে কিনে এনে ভ্যাকসিন দিতে হয়েছে। এ বিষয়ে পৌরসভার উদ্যোগ নেওয়া জরুরী। তাছাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, কুকুরের উপদ্রব নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করারও পরামর্শ দেন।
এদিকে কুকুরের কামড়ে আহতদের চিকিৎসা নিয়েও দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। অথচ দেশের বিভিন্ন জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় দ্রুত কেন্দুয়ায় বিনামূল্যে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

