১১ ফেব্রু ২০২৬, বুধ

খামেনির দেশত্যাগের গুঞ্জন, যা বলছে ইরানি দূতাবাস

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। দেশটির বিভিন্ন শহরে অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এরই মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৮৬ বছর বয়সি খামেনি বিক্ষোভ তীব্র হলে এবং নিরাপত্তা বাহিনী বা সেনাবাহিনী সরকারী নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে, পরিবারের প্রায় ২০ জন ঘনিষ্ঠ সদস্যকে নিয়ে দেশ ছাড়তে পারেন। এমনকি তার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কথাও উল্লেখ করা হয়। আরও দাবি করা হয় তার বিদেশে সম্পদ রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ভারতের ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
দূতাবাস জানায়, ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালেও খামেনি দেশ ছাড়েননি। ফলে বর্তমান বিক্ষোভের কারণে তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন—এমন দাবি পুরোপুরি অসত্য। দূতাবাস একে ‘শত্রু রাষ্ট্রগুলোর ছড়ানো অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ইরানে আসলে কী ঘটছে?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কয়েকজন ইরানি নাগরিক বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি সত্যিই একটি বড় সমস্যা এবং তারা চান এটি কমুক।’ তবে তারা স্পষ্ট করেছেন, তারা খামেনির বিরোধী নন।

তাদের মতে, যারা খামেনির বিরোধিতা করছেন তারা মূলত সাবেক শাহ রেজা পাহলভির সমর্থক ও বিদেশি শক্তির ঘনিষ্ঠ।

এদিকে কোম শহরের ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা জামির জাফরি বলেন, খামেনি সম্প্রতি ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন—যা প্রমাণ করে তিনি সক্রিয়ভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, ‘তেহরানে মোটামুটি সবকিছু স্বাভাবিক।’ এছাড়া খামেনি দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন—এমন খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের প্রতিবেদনে নামহীন সূত্রের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রমাণ নেই। যাচাই না করে এমন সংবাদ প্রকাশ থেকে ভারতীয় গণমাধ্যমকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *