২৯ মার্চ ২০২৬, রবি

জ্বরের সময়ে শিশুকে পানিপট্টি, যে ভুল করলে ভালোর চেয়ে ক্ষতি বেশি

ঠান্ডা-গরমের ফারাকে ঘন ঘন সর্দিকাশি, জ্বর হচ্ছে শিশুদের। সেই সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপও রয়েছে। ঘরে ঘরে ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত খুদেরা। জ্বরের সঙ্গে শুকনো কাশি, শ্বাসের সমস্যাও হচ্ছে অনেকের। শিশুর জ্বর হলেই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আর যদি দেখা যায়, জ্বর তিন দিনের বেশি রয়েছে, তাহলে কিছু পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। আর শুরু থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ানো উচিত। অনেক অভিভাবকই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে থাকেন শিশুদের। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। এর পাশাপাশি জ্বর হলে স্পঞ্জিং করাবেন কিনা, সেই নিয়েও অভিভাবকদের মনে নানা প্রশ্ন আসে।

এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের জ্বর হলে স্পঞ্জিং করানো যেতেই পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অবশ্যই মাথায় রাখা জরুরি। শিশুর জ্বরের সময় পানি পট্টি বা ভেজা কাপড়ে শরীর মুছে দেওয়া হয়। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে সবসময় স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা উচিত। আর অতিরিক্ত গরম বা বরফ ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ এতে শিশু ‘শক’ খেতে পারে কিংবা শরীর আরও কাঁপতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, শিশুকে কীভাবে স্পঞ্জিং করাবেন—

প্রথমত স্পঞ্জিং করার সময়ে কখনই ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন না। সবসময়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা পানি কিংবা সামান্য গরম পানি ব্যবহার করতে হবে।

দ্বিতীয়ত শুধু মাথায় পানিপট্টি দিয়ে তেমন লাভ হয় না। জ্বর হলে একটি ভেজা গামছা দিয়ে শিশুর মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভালো করে মুছিয়ে দিতে হবে। আর জ্বরের শুরুতেই স্পঞ্জিং করানো উচিত নয়। জ্বর ১০০ ফারেনহাইটের উপরে উঠে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আগে শিশুকে প্যারাসিটামল খাওয়াতে হবে। তারপরও জ্বর না কমলে স্পঞ্জিং করাতে হবে।

শিশুর স্পঞ্জিং করার সময় ফ্যান, এসি সব বন্ধ রাখা উচিত। আর কখনই ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে স্পঞ্জিং করানো ঠিক নয়। যদি দেখেন স্পঞ্জিংয়ের সময় শিশু থরথর করে কাঁপছে, তখন সঙ্গে সঙ্গে স্পঞ্জিং বা পানিপট্টি বন্ধ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *