২৩ ফেব্রু ২০২৬, সোম

পবিত্র মাহে রমজানে টাঙ্গাইলে লেবুর দাম আকাশচুম্বি। ইফতারে তৃষ্ণা মেটাতে শরবতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলে বেড়েছে লেবুর চাহিদাও। মৌসুম না থাকায় সরবরাহ তুলনামূলক কম আর সেই সুযোগে বাজারে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লেবুর চাষ হয়ে থাকে। এ ছাড়া সখিপুর, মির্জাপুর, ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলাতেও ব্যাপকভাবে লেবুর বাগান গড়ে উঠেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় টাঙ্গাইলের লেবু সরবরাহ করা হয়।

রমজানকে কেন্দ্র করে বর্তমানে লেবু চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। চাহিদা বেশি থাকায় পাইকারি বাজারে প্রতি মণ লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায়। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে একশো টাকা হালি অর্থাৎ একপিচ লেবুর দাম ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, ইফতারে লেবুর শরবতের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে একটি সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

লেবু চাষিরা জানান, লেবু চাষে তুলনামূলক কম পরিশ্রম ও কম খরচ হয়। রোগবালাইয়ের ঝামেলাও কম। একটি গাছ দীর্ঘদিন ফল দেয়। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক ধানসহ অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে লেবু চাষে ঝুঁকছেন।

দেলদুয়ার উপজেলার লেবু চাষি আব্দুল বাতেন, রহিম, বাদশা বলেন, ‘রমজানে চাহিদা বেশি থাকলেও এখন লেবুর মূল মৌসুম নয়। উৎপাদন কম থাকায় দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ লেবু ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করছি। ভালো দাম পাওয়ায় আমরা খুশি।’

লেবুর বাগানের শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তারা বাগান পরিচর্যার কাজ করছেন। তবে মৌসুম না থাকায় ফলন কম হচ্ছে। তবুও ছোট ছোট লেবুও তুলে বাজারজাত করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছর জেলায় ১ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার মেট্রিক টন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেলা লেবু উৎপাদনে অন্যতম। কৃষি বিভাগ থেকে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে চারা ও সার বিতরণসহ সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারাবছর চাষযোগ্য উন্নত জাতের লেবু কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। অল্প খরচে সহজেই লেবু চাষে লাভবান হওয়া সম্ভব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *