১৫ এপ্রি ২০২৬, বুধ

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর নতুন উদ্দীপনা নিয়ে আইপিএলে যোগ দিয়েছিলেন জসপ্রিত বুমরাহ। তবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তার সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না।

বুমরাহ এখন পর্যন্ত টানা পাঁচ ম্যাচে ম্যাচে উইকেটশূন্য রয়েছেন। এর মধ্যে দিল্লীর বিপক্ষে ২১, রাজস্থান রয়েলেস এর হয়ে তিন ওভারে ৩২, কেকেআরের বিপক্ষে ৩৫ রান এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৩৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিল বুমরাহ। এই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ১৮ রানে হেরে যায়।

তবে ম্যাচের আগের দিন ব্যাটিং কোচ কাইরন পোলার্ড আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, জসপ্রিত বুমরাহ তার হারানো ছন্দ ফিরে পাবেন। তিনি বলেন, আমাদের জন্য মূল বিষয় হলো এক হয়ে খেলা এবং দিনের শেষে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা। তা না হলে, আপনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করেন এবং এমন সব গল্প তৈরি করেন যা আসলে নেই। আমাদের মতে, বুমরাহ ঠিক আছে, সে ফিট, সে ফর্মে আছে। আর আপনাদের জন্য, আমি আশা করি সে আগামীকাল পাঁচটি উইকেট তুলে নেবে।

বর্তমানে মোহাম্মদ শামি, ব্রিজেশ শর্মা এবং লুঙ্গি এনগিডিসহ অন্তত পাঁচজন বোলার আছেন, যাদের ইকোনমি রেট বুমরাহ এর চেয়ে ভালো। অপরদিকে ১২ মৌসুমে ১২৩ ম্যাচ খেলে ১৪৬ উইকেট নেওয়া অভিজ্ঞ বোলার ট্রেন্ট বোল্ট এখন পর্যন্ত মাত্র একটি উইকেট নিতে পেরেছেন। প্রথম ওভার উইকেট এনে দেওয়া হিসেবে তিনি পরিচিত হলেও, এখনও তার স্বাভাবিক প্রভাব ফেলতে পারেননি।

ভারতের সাবেক স্পিনার নিজের রবিচন্দ্রন অশ্বিন ইউটিউব শো-তে বলেন এ প্রসঙ্গে বলেন, উইকেট না পাওয়ার জন্য বুমরাহকে দোষ দেওয়াটা অন্যায় হবে। এটা একটা দলীয় খেলা এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ধারাবাহিক চাপের মাধ্যমেই উইকেট আসে। আপনি যদি ক্রুনাল পান্ডিয়া (১/২৬) এবং সুয়াশ শর্মার (২/৪৭) দিকে তাকান, দেখবেন তারা উইকেট পেয়েছেন কারণ অন্য প্রান্তে ভুবনেশ্বর কুমারের চাপ ছিল। বুমরাহ সেই ধরনের সমর্থন পাননি।

এই মৌসুমে শীর্ষ দশ উইকেট শিকারীর মধ্যে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের একজনও বোলার নেই। সব মিলিয়ে এমআই চারটি ম্যাচে মাত্র ১৪টি উইকেট নিতে পেরেছে, যেখানে রাজস্থান রয়্যালস এবং গুজরাট টাইটান্স যথাক্রমে ৩২ এবং ২৭টি উইকেট নিয়েছে।

আরসিবি চারটি ম্যাচে ২৮টি উইকেট তুলে নিয়েছে। এমআই-এর এই দুর্দশা শুধু উইকেটের অভাবেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের সমস্যা আরও গভীরে। সব দলের মধ্যে তাদের গড় (৫৫.০), স্ট্রাইক রেট (২৯.৬) এবং ইকোনমি রেট (১১.১৩) সবচেয়ে খারাপ। এই প্রতিযোগিতায় তাদের ডট-বলের হারও সর্বনিম্ন এবং বাউন্ডারির ​​হার সর্বোচ্চ।

দলের বোলিং পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে এমআই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া বলেন, আমার মনে হয় গত কয়েকটি ম্যাচে বোলিং ইউনিট বা ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমরা খেলায় এগিয়ে থাকার পরিবর্তে পিছিয়েই ছিলাম। আমাদের সত্যিই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে, দেখতে হবে আমরা সবচেয়ে ভালো কী করতে পারি এবং কীভাবে আমরা সেই গতি ও ছন্দটা ফিরে পেতে পারি যা আমাদের প্রয়োজন। এখান থেকে আমরা দু-এক দিনের ছুটি পাচ্ছি এবং আমরা আবার খেলব। এমআই-এর সবচেয়ে সফল বোলার হলেন শার্দুল ঠাকুর, যিনি চার ম্যাচে ১৩.৪৫ ইকোনমি রেটে পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন।

হার্দিক বলেন, সত্যি বলতে, এটা নিয়ে একেবারেই চিন্তার কিছু নেই। প্রতিপক্ষ ভালো ব্যাটিং করেছে এবং আমার মনে হয়, যেখানে কৃতিত্ব প্রাপ্য, সেখানে তা দেওয়া উচিত। যেমনটা আমি বললাম, এটা আমাদের জন্য খুবই সামান্য ব্যবধানের ব্যাপার—হয়তো এখানে-সেখানে দু-একটা ফিল্ডিং পরিবর্তন করা যেত—কিন্তু আমার মনে হয় না এর সঙ্গে আমাদের বোলারদের খুব বেশি সম্পর্ক আছে। মূল বিষয় হলো আরও ভালোভাবে খেলা এবং উন্নতি করে যাওয়া।

ইকোনমি-রেটের (৮.২০) তালিকায় বুমরাহ দশম স্থানে থাকলেও, প্রধান বোলারের উইকেট খরা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ভুগিয়েছে, যারা তাদের খেলা চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই হেরেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট পেলে হয়তো আরসিবি ৪ উইকেটে ২৪০ রানের বিশাল স্কোর গড়া থেকে বিরত থাকত। এমআই পাওয়ারপ্লেতে ৭১ রান এবং ডেথ ওভারে ৫৩ রান দিয়েছে। যা আগের পারফরম্যান্সের তুলনায় একটি উন্নতি, কারণ এই মৌসুমে ডেথ বোলিংয়ে তাদের রেকর্ড দ্বিতীয়-নিকৃষ্টতম (রাজস্থান রয়্যালসের পরে), যেখানে তারা ১৩.১ ওভারে গড়ে ৩৩ রান করেছে এবং মাত্র চারটি উইকেট নিতে পেরেছে।

আগামী বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে খেলবে মুম্বাই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *