গত ১৯ মার্চ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বক্স অফিসে রাজত্ব করছে আদিত্য ধরের স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। রণবীর সিং অভিনীত এই ছবিটি বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যেই ১৫০০ কোটি রুপির বেশি ব্যবসা করে চলতি বছরের অন্যতম সফল ছবির মর্যাদা পেয়েছে।
ছবিটির এই আকাশচুম্বী সাফল্যের মাঝেই এর কাস্টিং নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন বলিউডের প্রখ্যাত কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, এই ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ‘রেহমান ডাকাত’-এর ভূমিকাটি প্রথমে বলিউডের দুই এবং দক্ষিণ ভারতের এক জনপ্রিয় অভিনেতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। মুকেশ ছাবড়ার মতে, ছবিটির অভাবনীয় সাফল্যের পর তারা নিশ্চিতভাবেই আজ সেই সিদ্ধান্তের জন্য আফসোস করছেন।
ছবিটির বিশাল ক্যানভাস এবং ৪০০-এর বেশি চরিত্রের কাস্টিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে মুকেশ জানান, পরিচালক আদিত্য ধর তাকে শুরু থেকেই পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন বড় কিছু ভাবার জন্য। চিত্রনাট্য শোনার পর তিনি নিজেও বেশ কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন, কারণ এত বড় মাপের কাজ এর আগে তিনি করেননি। ছবিতে খলনায়ক রেহমান ডাকাত চরিত্রের জন্য অক্ষয় খান্নাকে চূড়ান্ত করার আগে যে তিন অভিনেতার কাছে প্রস্তাব গিয়েছিল, তারা প্রধানত ‘অ্যানসাম্বল কাস্ট’ বা এটি মূলত রণবীরের ছবি— এমন অজুহাতে কাজ করতে রাজি হননি। তবে মুকেশ মনে করেন, অক্ষয় খান্না এই চরিত্রে অভিনয় করে আজ নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
অন্যদিকে, ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘হামজা’ হিসেবে রণবীর সিং শুরু থেকেই পরিচালকের প্রথম এবং একমাত্র পছন্দ ছিলেন। চিত্রনাট্য শোনার পরপরই রণবীর ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য রাজি হয়ে যান। এ ছাড়া ‘ইয়ালিনা জামালি’ চরিত্রের জন্য প্রায় এক হাজার নতুন মুখের অডিশন নেওয়া হয়েছিল, যাতে দর্শক কোনো পরিচিত মুখ নয় বরং সম্পূর্ণ নতুন কাউকেই সেই চরিত্রে দেখতে পায়।
সঞ্জয় দত্ত, আর মাধবন এবং অর্জুন রামপালের মতো তারকাদের নিয়ে সাজানো এই ছবিটির গবেষণা ও কাস্টিং সারতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল। বর্তমানে বক্স অফিসে ছবিটির যে দাপট চলছে, তাতে ‘ধুরন্ধর’ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে নতুন নজির গড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: এনডিটিভি

