সালাত মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের সঙ্গে বান্দার একান্ত সাক্ষাৎ। এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো সময়টাই মূলত দোয়ার সময়। রসুল (সা.) বলেন, যখন কেউ নামাজে থাকে তখন সে তার প্রভুর সঙ্গে মোনাজাতে (গোপন আলাপচারিতায়) রত থাকে। কাজেই তার ভেবে দেখা উচিত কীভাবে এবং কী বলে সে তাঁর সঙ্গে মোনাজাত বা আলাপ করছে। (বুখারি ও মুসলিম)। নামাজ হলো সর্বাপেক্ষা উত্তম দোয়া বা প্রার্থনা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, আর তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো, জাকাত প্রদান করো, এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো। (সুরা বাকারা, আয়াত ৪৩)।
হে নবী আমার বান্দাদের মধ্যে যারা মুমিন তাদের বলুন নামাজ কায়েম করতে। (সুরা ইবরাহিম, আয়াত ৩১)।
ইমানের পর ইসলামে নামাজের চেয়ে গুরুত্ব অন্য কোনো ইবাদতে প্রদান করা হয়নি। কোরআন শরিফে ৮৩ বার নামাজের প্রসঙ্গ এসেছে। আল্লাহ বলেন, তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো। (সুরা বাকারা, আয়াত ১১০)। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.)-কে এ কথা বলতে শুনেছি- আচ্ছা তোমরা বল তো, যদি কারও বাড়ির সামনে একটি নদী থাকে যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কি কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে? সাহাবিগণ বললেন, না। কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণও সেইরূপ। এর দ্বারা আল্লাহতায়ালা বান্দার পাপরাশি নিশ্চিহ্ন করে দেন। (বুখারি শরিফ, ৫২৬)। সুবহানাল্লাহ। পবিত্র কোরআনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, অতএব, হে নবী এরা যা কিছু বলে তুমি তার ওপর ধৈর্য ধারণ করো, তুমি বরং তোমার মালিকের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো- সূর্যোদয়ের ও অস্ত যাওয়ার আগে, রাতের একাংশে এবং দিনের দুই প্রান্তেও তুমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো, যেন তুমি সন্তুষ্ট হতে পারো। (সুরা ত্বাহা, আয়াত ১৩০)। তারপর আল্লাহ বলেন, হে নবী তোমার পরিবার পরিজনকে নামাজের আদেশ দাও এবং তুমি নিজেও তার ওপর অবিচল থেকো। (সুরা ত্বাহা, আয়াত ১৩২)। নামাজের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। একজন নামাজি ব্যক্তি কখনো খারাপ বা মন্দ কাজ করতে পারে না।

