দীর্ঘ পাঁচ মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুর্দি রাজনীতিক নিজার আমেদি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে ২২৭ ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হন।
প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অফ কুর্দিস্তান (পিইউকে) মনোনীত এই প্রার্থী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুথান্না আমিন নাদেরকে পরাজিত করেন, যিনি মাত্র ১৫টি ভোট পেয়েছেন।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর আমেদি ইরাকের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। শপথ গ্রহণের পর পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি ‘ইরাক ফার্স্ট’ বা ‘আগে ইরাক’ নীতি অনুসরণের অঙ্গীকার করেন এবং দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সকল প্রশাসনিক শাখার সাথে মিলে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
৫৮ বছর বয়সী নিজার আমেদি একজন অভিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তা, যিনি কয়েক দশক ধরে ইরাকের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। তিনি এর আগে দুইজন সাবেক প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটির পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইরাকের সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিধান থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এই ভোট কয়েকবার স্থগিত করা হয়েছিল। অবশেষে আমেদির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ইরাকের সরকার গঠনের দীর্ঘসূত্রতা কাটল। গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর প্রায় ১৫০ দিন দেশটিতে কোনো নতুন সরকার ছিল না।
ইরাকের এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন দেশটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পরবর্তী ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সাময়িক অবসান ঘটে।
এই যুদ্ধ চলাকালীন ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বারবার হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় ইরাকি সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। আমেদি তার ভাষণে যুদ্ধের সময় ইরাকের ওপর চালানো এসব হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এখন সবার দৃষ্টি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের দিকে, যা ইরাকের রাজনীতির জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। ইরাকের প্রচলিত সাম্প্রদায়িক ক্ষমতা ভাগাভাগি ব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদটি শিয়া মুসলিমদের জন্য সংরক্ষিত।
পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ ইতিমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকিকে এই পদের জন্য মনোনীত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মালিকি যদি সরকার গঠন করেন তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিতে পারে। এখন সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, আমেদিকে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে বৃহত্তম ব্লকের মনোনীত ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।
সূত্র: আল জাজিরা

