পর্যটক বরণে প্রস্তুত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। ধোয়া-মোছা এবং রং তুলির আঁচড়ে নতুন করে সাজানো হয়েছে হোটেল মোটেল। সৈকতের ছাতা বেঞ্চে লেগেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। ঈদের লম্বা ছুটি সামনে রেখে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে অগ্রিম হোটেল বুকিং।
এদিকে পর্যটক সমাগম না থকায় নিরবতায় কাটছে ব্যবসায়ীদের দিন। এতে বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এ বছর ঈদের লম্বা ছুটিতে আগের সব রেকর্ড ভেঙে পর্যটকরা আসবেন— এমনটাই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা জানান, এ বছর পুরো রমজান মাস জুড়ে বন্ধ রয়েছে সব হোটেল মোটেল। পর্যটক শূন্য রয়েছে দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকত। দীর্ঘদিন পর্যটকদের পদচারণা না থাকায় সৈকতের বালুচরে ডানা মেলেছে প্রকৃতি। গুল্ম লতায় ছেয়ে গেছে সৈকতের অনেক স্থান। ফুটেছে নতুন ফুল। এছাড়া রয়েছে সাদা ঝিনুক এবং লাল কাকড়ার অবাধ বিচরণ। লাল কাকড়ার আল্পনা যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। মোটকথা প্রকৃতি যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে পর্যটকদের।
ট্যুরিজম ব্যবসায়ী জনি আলম জানান, দীর্ঘ এক মাস পর্যটকশূন্য ছিল কুয়াকাটা। তবে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ব্যাপক চাপ থাকবে। তাই আগেভাগেই হোটেল মোটেলগুলো সাজিয়ে নিচ্ছে মালিকরা।
ট্যুর অপারেটস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা টোয়াক’র সেক্রেটারি আহাদুজ্জামান মিরাজ জানান, পর্যটকদের বরণে হোটেল মোটেল কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতিমধ্যে অগ্রিম রুম বুকিংও হচ্ছে। আশাকরি ঈদের লম্বা ছুটিতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. নাজমুল আহসান জানান, বর্তমানে কুয়াকাটায় তেমন কোনো পর্যটকের ভিড় নেই। কিন্তু আমাদের টহল টিম এখনও সৈকতে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া এবার ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামতে পারে। তাই আগতদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা পুশিল, নৌ-পুলিশ ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করবে। একই সাথে পর্যটন স্পটগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার বাড়তি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

