১৪ ফেব্রু ২০২৬, শনি

পর্যটনে মন্দাভাব, মূল্যছাড়ে রোজায় ব্যবসা ধরার চেষ্টায় হোটেল–রিসোর্টগুলো

এবার পর্যটন মৌসুমে কিছুটা মন্দাভাব ছিল। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পটভূমিতে এবারের পর্যটন মৌসুমে ভালো ব্যবসা হয়নি বলে জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের কারণেও কয়েক দিন দেশের পর্যটন এলাকার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ে ছিল খরা। এর মধ্যে আগামী সপ্তাহে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান। সব মিলিয়ে রিসোর্ট ও হোটেল ব্যবসায়ে ভাটা। এ কারণে পর্যটক আকর্ষণে রিসোর্ট ও হোটেলগুলো এখন বিশেষ ছাড়সহ নানা সুবিধা দিয়ে ব্যবসা বাড়াতে তৎপর।

রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে কিছু রিসোর্ট ও হোটেল পর্যটক আকর্ষণে বিভিন্ন ধরনের ছাড় দিয়ে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিছু রিসোর্ট রোজার সময়ের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

জানতে চাইলে শেয়ারট্রিপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাদিয়া হক বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর দেশে পর্যটন খাতের ব্যবসা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমেছে। নির্বাচন, নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা ও সার্বিক পরিস্থিতিতে এ খাতের ব্যবসায়ে মন্দাভাব ছিল।

পর্যটন খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রোজা শুরু হলে অবকাশযাপন ও ভ্রমণ আরও কমে যাবে। শীতকাল দেশের পর্যটনের প্রধান মৌসুম। এ বছর এই মৌসুম ভালো যায়নি। রোজা শুরু হলে পারিবারিক ও ধর্মীয় ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফলে এ সময়ে মানুষের ভ্রমণে প্রবণতা কম থাকে। এ সময়ে কিছুটা হলেও ব্যবসা ধরতে তাই হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো বড় ধরনের ছাড় দিচ্ছে।
গাজীপুরের রিসোর্টগুলোয়ও ছাড় চলছে

গাজীপুরের রাজবাড়ীতে অবস্থান সারাহ রিসোর্টের। এই রিসোর্টের ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির শুরু থেকে এই রিসোর্টে কক্ষভেদে প্রায় ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় ছিল। জানুয়ারির শেষ দিকে এসে রিসোর্টটির সব কক্ষেই ৫৩ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়।

গাজীপুরের আরেক অভিজাত রিসোর্ট ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। রিসোর্টটিতে বর্তমানে কোন ছাড় না থাকলেও রোজায় সব কক্ষেই ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পার সহকারী ব্যবস্থাপক আতিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকেই অতিথি আসা কমে গেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কক্ষ বুকিংয়ের হার ছিল ৫০ শতাংশ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এখন পর্যন্ত ২০ শতাংশ বুকিং হয়েছে।

গাজীপুরের আরেক রিসোর্ট কালমেঘা কান্ট্রি ক্লাব অ্যান্ড রিসোর্ট। এই রিসোর্টের ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে এই রিসোর্টের ভিলা বুকিংয়ে ৩০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর রোজায় দেওয়া হয়েছে ৫০ শতাংশ মূল্যছাড়। এ ছাড়া গাজীপুরের ছুটি রিসোর্টসহ বেশির ভাগ রিসোর্টে পর্যটন আকর্ষণে রোজার আগে ও পরে বিভিন্ন ছাড় দিচ্ছে।

সিলেট–কক্সবাজারেও ছাড়

সিলেটের হোটেল–মোটেলগুলো ভালো ব্যবসা করলে মাসে গড়ে দেড় কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার। সিলেটে সাধারণত শীত ও বর্ষা মৌসুমে বেশি পর্যটক ভিড় করেন। সিলেট অঞ্চলের আরেক পর্যটন এলাকা শ্রীমঙ্গল। চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু তারকা হোটেল ও রিসোর্ট। এর মধ্যে একটি বালিশিরা রিসোর্ট। গত জানুয়ারিতে এই রিসোর্টের সব কক্ষের জন্য ৩২ শতাংশ ছাড় ছিল। বর্তমানেও কিছু রুমে প্রকারভেদে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় রয়েছে।

বালিশিরা রিসোর্টের রিজার্ভেশন এক্সিকিউটিভ অয়ন শর্মা বলেন, গতবারের তুলনায় এবার রুমের বুকিং প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কম। জানুয়ারিতে কিছুটা বুকিংয়ের চাহিদা থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে চাহিদা কমে গেছে। রোজার সময় দেখা যায়, টানা চার থেকে পাঁচ দিনও কোনো পর্যটক আসেন না।
দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারেও রুম বুকিং কমেছে। রোজা শুরু হলে তা আরও কমে যাবে বলে ধারণা করছেন সেখানকার হোটেল ব্যবসায়ীরা। এ কারণে পর্যটক টানতে অনেক হোটেল ও রিসোর্ট ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। কেউ ইফতার ও সাহ্‌রিভিত্তিক বিশেষ প্যাকেজ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রোজায় কক্সবাজারের সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পাতে একটি কক্ষের সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা, যা আগে ছিল আট হাজার টাকা। সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের প্রধান বিপণন ও রাজস্ব কর্মকর্তা এ কে এম আসাদুর রহমান   বলেন, রোজার সময় পর্যটকদের ভ্রমণ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে যায়। তবে এবার নির্বাচন উপলক্ষে চলতি মাসের শুরু থেকেই পর্যটকদের আনাগোনা কমা শুরু হয়েছে। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকলে এবারের ঈদে ভালো ব্যবসা হবে।

রোজা উপলক্ষে কক্সবাজারের আরেক হোটেল এক্সোটিকা সাম্পান হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টও ছাড় দিয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই হোটেলে ৫০ শতাংশ মূল্যছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই হোটেলের রিজার্ভেশন এক্সিকিউটিভ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, রোজায় পর্যটকদের আগ্রহ বাড়াতে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে চলতি মাসে বুকিং স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৩০ শতাংশ কমে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *