৩১ মার্চ ২০২৬, মঙ্গল

পাবনায় বেড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব

বনায় হঠাৎ করেই ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। শয্যা সংকটে মেঝে ও বারান্দায় চলছে চিকিৎসা, এমনকি এক বিছানায় একাধিক শিশুকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।

চলতি মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জেনারেল হাসপাতাল​ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ জনই ৩ মাস থেকে ১২ মাস বয়সী শিশু। চলতি বছরের শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত ১২৬ জন হামে আক্রান্ত রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৮ জন এবং গত এক সপ্তাহে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।

রোগীর চাপে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রবেশের স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। মেঝেতে সারি সারি রোগী এবং বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

​স্বজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ভোগান্তি চরমে পৌঁছালেও চিকিৎসকরা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক রোগীর অভিভাবক বলেন, রোগী অনেক বেশি হওয়ায় কষ্ট হচ্ছে, তবে ডাক্তাররা নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে একটি ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ চালু করেছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. তানভীর ইসলাম জানান, রোগীর চাপ অস্বাভাবিক হলেও পুরো বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান বলেন, ​হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারে, তবে শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রীর কোনো সংকট নেই।
​চিকিৎসকরা এই সময়ে শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

By Fhrakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *