২৮ ফেব্রু ২০২৬, শনি

পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় আফগানিস্তান

ভয়াবহ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। এতে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশি দেশের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে।

আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে বিমান হামলার পর এই সংঘাতকে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার রক্তক্ষয় এড়াতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের তালেবান শাসকরা বলেছেন, তারা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে ইচ্ছুক।

শুক্রবার তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, তালেবান নেতাদের মূল কেন্দ্র কান্দাহার ও অন্যান্য শহরে হামলা চালিয়েছে।

পাকিস্তান সরকারকে উৎখাত করতে চাওয়া জঙ্গিদের আফগানিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে এই প্রথম সরাসরি আফগান সরকারের ওপর হামলা চালাল পাকিস্তান।

তালেবান মুখপাত্র জানান, হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে, তবে তিনি বিস্তারিত কোনও তথ্য দেননি।

গত সপ্তাহে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার সীমান্তে আফগান বাহিনী পাল্টা হামলা চালালে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পাকিস্তান দাবি করে আসছে যে, আফগানিস্তান ‘পাকিস্তানি তালেবান’ (টিটিপি) জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। আফগানিস্তান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

শুক্রবার জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “আফগানিস্তান সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে এবং এখনও আমরা সংলাপের মাধ্যমেই এর সমাধান চাই।”

তিনি জানান, পাকিস্তান বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে কাবুল, কান্দাহার ও পাক্তিয়ায় এবং শুক্রবার পাক্তিয়া, পাক্তিকা, খোস্ত ও লাঘমান প্রদেশে হামলা চালিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনীতির পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র বলেন, তালেবান সরকার সন্ত্রাসবাদ দমনে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস দুই দেশকেই উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং আফগান ভূখণ্ড যেন সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য না হয়, সেদিকে নজর দিতে বলেছেন।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আমাদের মধ্যে উন্মুক্ত যুদ্ধ শুরু হয়েছে।”

পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং সামরিকভাবে অনেক শক্তিশালী হলেও, তালেবানরা কয়েক দশকের গেরিলা যুদ্ধে অভিজ্ঞ।

প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে শনিবার রিপোর্ট লেখা পর্যন্তও হামলা-পাল্টা হামলা চলছিল।

আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম টোলোনিউজ জানায়, তালেবান বাহিনী শনিবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের মিরানশাহ এবং স্পিনওয়ামে পাকিস্তানি সামরিক ক্যাম্পে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান টিভি জানায়, গত কয়েক ঘণ্টা ধরে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী আফগান তালেবানদের বেশ কয়েকটি সামরিক ক্যাম্পে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

বর্তমানে কাতার গত বছরের মতো এবারও মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং জানিয়েছেন যে, তারা পারস্পরিক সম্মান ও আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান চান। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *