২০ ফেব্রু ২০২৬, শুক্র

প্রতিটি গ্রহের ভাগ্য নির্ধারিত হয় তার নক্ষত্রের আচরণ, কক্ষপথের স্থিতিশীলতা ও মহাজাগতিক পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণার চাকতিতে অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণা হিসেবে গ্রহের জীবন শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব কণা একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে মহাকর্ষ বল সক্রিয় হলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়। জ্যোতিঃপদার্থবিদ শন রেমন্ডের মতে, অসংখ্য সংঘর্ষের মাধ্যমেই গ্রহ পূর্ণ আকৃতি পায়। বৃহস্পতির মতো গ্যাসীয় দানবগুলো প্রথমে বিশাল পাথুরে কেন্দ্র হিসেবে গঠিত হয় এবং পরে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের পুরু আস্তরণ টেনে নেয়।

অন্য কোনো গ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষে বা নক্ষত্র গিলে ফেলার কারণে অনেক গ্রহ ধ্বংস হয়ে যায়। গ্রহ বিজ্ঞানী ম্যাথিউ রেইনহোল্ডের মতে, একটি গ্রহ তখনই মৃত, যখন সেটিতে প্রাণ ধারণের বা আগের সক্রিয় অবস্থা আর বজায় থাকে না। সমুদ্র শুকিয়ে যাওয়া, টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া থেমে যাওয়া বা বায়ুমণ্ডল হারিয়ে ফেললেই তাকে মৃত গ্রহ বলা যায়।

আমাদের পৃথিবীর ভাগ্য সরাসরি সূর্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বর্তমানে সূর্য তার কেন্দ্রে হাইড্রোজেন পুড়িয়ে হিলিয়ামে রূপান্তরের মাধ্যমে আলো ও তাপ উৎপন্ন করছে, যা পৃথিবীতে প্রাণ বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু নক্ষত্রদেরও বয়স হয়। আজ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি বছর পর সূর্য তার হাইড্রোজেনের মজুত হারিয়ে ফেলবে এবং আকারে বিশাল হয়ে একটি লাল দানবে পরিণত হবে। তবে সূর্য পৃথিবীকে গিলে ফেলার অনেক আগেই সূর্যের ক্রমবর্ধমান উজ্জ্বলতা পৃথিবীর সমুদ্রের পানি ফুটিয়ে বাষ্পীভূত করে দেবে এবং পৃষ্ঠের পানি অদৃশ্য হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত পৃথিবী হয়তো সূর্যের পেটে চলে যাবে অথবা নক্ষত্রের ভর কমে যাওয়ার ফলে কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মহাকাশে নিক্ষিপ্ত হবে। সব মিলিয়ে সৃষ্টি থেকে ধ্বংস পর্যন্ত পৃথিবীর আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে প্রায় ৯৫০ কোটি বছর।

মহাবিশ্বের সব নক্ষত্র আমাদের সূর্যের মতো নয়। অনেক নক্ষত্রই আকারে ছোট এবং শীতল, যাদের বলা হয় রেড ডোয়ার্ফ বা লাল বামন। এরা অত্যন্ত ধীরগতিতে জ্বালানি পোড়ায়। ফলে এই নক্ষত্রগুলোকে কেন্দ্র করে ঘোরা গ্রহগুলো পৃথিবীর চেয়ে বহুগুণ বেশি সময় টিকে থাকতে পারে। রেইনহোল্ডের মডেল অনুযায়ী, কোনো গ্রহের প্রকৃত আয়ু নির্ভর করতে পারে তার অভ্যন্তরীণ ভূতাত্ত্বিক অবস্থার ওপর। টেকটোনিক প্লেট ও ম্যান্টল কনভেকশন মূলত কার্বন–সিলকেট চক্রের মাধ্যমে গ্রহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, যা অনেকটা থার্মোস্ট্যাটের মতো কাজ করে। রেড ডোয়ার্ফের চারপাশের পাথুরে গ্রহগুলোয় এই ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া ৩০ থেকে ৯০ বিলিয়ন বছর পর্যন্ত চলতে পারে। মহাবিশ্বের অনেক পাথুরে গ্রহ তাদের নক্ষত্র নিভে যাওয়ার অনেক আগেই অভ্যন্তরীণভাবে মৃত হয়ে যাবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *