২৮ ফেব্রু ২০২৬, শনি

পৃথিবী ভবিষ্যতে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে

আজ থেকে ২৫ কোটি বছর পর পৃথিবীর মানচিত্র কেমন হবে? নতুন এক জলবায়ু সিমুলেশন দেখা গেছে, বর্তমানের সব মহাদেশ ভবিষ্যতে একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়ে একটি বিশাল ভূখণ্ড তৈরি করবে। তবে এই নতুন পৃথিবী স্তন্যপায়ী প্রাণীদের জন্য হয়ে উঠতে পারে এক চরম দুঃস্বপ্ন। যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে তীব্র তাপ এবং বিভিন্ন দেশজুড়ে খরা প্রাণিকুলের বসবাসের এলাকাকে সংকুচিত করে দেবে। নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় ভবিষ্যতের পৃথিবীর এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে বিশ্ব মানচিত্রে আটলান্টিক মহাসাগর সংকুচিত হয়ে বিলীন হয়ে যাবে। টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে ইউরোপ ও আফ্রিকা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হবে। বর্তমানে আমরা যে ভূমধ্যসাগর দেখি তা আফ্রিকা ও ইউরোপের সংঘর্ষে পুরোপুরি হারিয়ে যাবে। ফলে মরক্কো, আলজেরিয়া এবং তিউনিসিয়া সরাসরি ফ্রান্সের সঙ্গে একই নিরবচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের অংশ হয়ে উঠবে। সমুদ্রের অনুপস্থিতির কারণে ফ্রান্সের মতো দেশগুলো তাদের শীতল রাখার প্রাকৃতিক উৎস হারাবে। এর ফলে তখন গ্রীষ্মকাল হয়ে উঠবে অসহনীয়।

কম্পিউটার মডেল অনুযায়ী, এই সুপারকন্টিনেন্টের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের তাপমাত্রা বছরের দীর্ঘ সময় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের এর ওপরে থাকবে। বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফার্নসওয়ার্থের মতে, এই বিশাল ভূখণ্ডের বেশির ভাগ অংশই এত গরম এবং শুষ্ক হয়ে যাবে যে সেখানে বড় কোনো প্রাণীর বেঁচে থাকা অসম্ভব হবে। তখন মানুবশরীরে ঘামানোর মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া আর কাজ করবে না। এমনকি ছায়ার নিচে বসে থেকেও কোনো লাভ হবে না। এর ফলে অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণীই বিলুপ্তির মুখে পড়বে।

সুপারকন্টিনেন্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠে নতুন নতুন ফাটল ও দীর্ঘ আগ্নেয়গিরি শৃঙ্খল তৈরি হবে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে, যা গ্রিনহাউস প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সময়ে সূর্য বর্তমানের চেয়ে প্রায় ২.৫ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। এই দ্বিমুখী আক্রমণে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রাণীদের মানিয়ে নেওয়ার গতির চেয়েও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। বিশাল এই মহাদেশের ভেতরের অংশ মরুভূমি ও তাপ বলয়ে পরিণত হলেও, সমুদ্রের ধারের উপকূলীয় অঞ্চল এবং উচ্চ অক্ষাংশের এলাকাগুলো কিছুটা শীতল থাকবে। বর্তমানের উত্তর ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং পর্তুগালের কিছু অংশ এই শীতল বলয়ের কাছাকাছি পড়তে পারে। তবে সমুদ্র থেকে হাজার মাইল দূরের অভ্যন্তরীণ জনপদে পানি পৌঁছানোর আগেই বাতাস শুষ্ক হয়ে যাবে, ফলে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব বিরল হয়ে পড়বে।

গবেষকেরা স্বীকার করেছেন, ২৫ কোটি বছর পরের নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। টেকটোনিক প্লেটগুলোর সামান্য নড়াচড়া বা ছোট কোনো পরিবর্তন ভবিষ্যতের মানচিত্রকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

সূত্র: আর্থ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *