সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকরা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। মদ্যপান ও ধূমপান যেমন লিভারের ক্ষতি করে, তেমনি আধুনিক জীবনযাত্রার অভ্যাস—প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফ্যাটযুক্ত খাবার, অল্প চলাচলও সমস্যা বাড়াচ্ছে। তবে ফ্যাটি লিভার সাধারণ নয়; শুরুতে সতর্ক না হলে লিভারের ক্ষতি হতে বাধ্য।
ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিতে মূল কারণগুলো:
খারাপ খাদ্যাভ্যাস: পাস্তা, পিৎজা, বার্গার বা ভাজাভুজি বেশি খাওয়া, বেশি চিনি বা নুন যুক্ত খাবার লিভারের জন্য ক্ষতিকর। প্রক্রিয়াজাত ও হিমায়িত খাবারও বিপজ্জনক।
শরীরচর্চার অভাব: দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ, কম ওঠা-হাঁটা—এতে মেদ জমে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়।
স্থূলত্ব: বিশেষ করে পেটে অতিরিক্ত মেদ জমা ফ্যাটি লিভারের প্রধান ঝুঁকি।
ডায়াবিটিস ও ইনসুলিন সমস্যা: হরমোন ঠিকমতো কাজ না করলে লিভারে ফ্যাট জমতে থাকে।
খাবার যা ফ্যাটি লিভারের জন্য ভালো:
তেল: এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল স্যালাড বা কম তাপে রান্নায় ভালো। এতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে।
বাদাম ও বীজ: আখরোট, কাঠবাদাম, কুমড়ো বা তিসির বীজ লিভারের জন্য উপকারী।
সুস্থ কার্বোহাইড্রেট: ওটস, বার্লি, মিলেট রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে ও লিভারের জন্য ভালো।
যে খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি:
বারবার ব্যবহার করা তেল বা ভাজাভুজি।
প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক।
সাদা পাউরুটি, কেক, পেস্ট্রি বা ময়দাজাত খাবার নিয়মিত খাওয়া।
চিকিৎসকরা বলেন, দৈনন্দিন জীবনযাপন ও খাবারের সচেতনতা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং জীবনযাত্রায় ছোট ছোট বদল লিভারের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

