১০ এপ্রি ২০২৬, শুক্র

বরিশালে অকারণে বেড়েছে যানবাহনের ভাড়া, প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে

কোনো কারণ ছাড়াই জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ভাড়া বাড়িয়েছেন বরিশালের ট্রাক ও ট্রলারের মালিকরা। এক মাস ধরে নগরী ও জেলায় চলাচলকারী ট্রাক, মিনি পিকআপ ও মালামাল বহনকারী ট্রলারে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাড়তি ভাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যানবাহনে বাড়তি ভাড়ার কারণে পণ্যের দাম বেশি পড়ছে।
জ্বালানি তেলের দাম না বাড়লেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে যানবহনের মালিকরা ভাড়া বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ বাজার রোডের ব্যবসায়ীদের। নগরীর ফড়িয়াপট্টি রোডের চাল ব্যবসায়ী সঞ্জয় ঘোষ বলেন, প্রতি ট্রাক চাল আনতে আগের চেয়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। এছাড়া ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। এই বাড়তি ভাড়ার কারণে চালের দাম বেশি পড়ছে।

সূত্র বলছে, দোকানিরা কোনো পণ্যের দাম বাড়তি রাখলে ব্যবস্থা নেয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কিংবা জেলা প্রশাসন। এসব পণ্য পরিবহণে কোনো ধরনের অভিযান না থাকায় ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন ট্রলার ও ট্রাকের মালিকরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, যানবাহনের ভাড়া নির্দিষ্ট করলে ভোগান্তি কমবে সাধারণ মানুষের।

এদিকে পণ্য পরিবহণে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন। তিনি বলেন, পণ্যবাহী যানবাহন পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছে। এরপরও যদি তেলের অজুহাতে কোনো পরিবহণে বাড়তি ভাড়া রাখা হয়, আমাদের কাছে অভিযোগ করা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাজার দর নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি টিম মনিটরিং করছে। পণ্যের দাম কিংবা যানবাহনে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলার নদীমাত্রিক কয়েকটি উপজেলায় পণ্য পরিবহণ করতে হয় ট্রলারে করে। এসব এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, বাড়তি ভাড়ার জন্য প্রতিটি পণ্য এখন বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের মুদি দোকানদার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বরিশাল শহর থেকে আগে যে ট্রলার ভাড়া দিতাম ১২/১৩ হাজার টাকা সেখানে এখন ১৫/১৬ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। যে কারণে সব পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

একাধিক ট্রাক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তেলের জন্য ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়। যে কারণে বাড়তি টাকায় ট্রিপ না হলে মালিকরা ভাড়া দিতে চাচ্ছেন না। তাই আপাতত আগের চেয়ে কিছুটা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

রূপাতলি এলাকার মিনি পিকআপ চালক রিয়াজ মৃধা বলেন, অনেক সময় চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তেলের সংকট কাটলেই বাড়তি ভাড়ার প্রভাব কেটে যাবে। বাকেরগঞ্জ উপজেলার কামারখালি বাজারের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী মামুন খান বলেন, বরিশাল থেকে আমাদের গ্রামে একটি মিনি পিকআপ আসতে আগের চেয়ে দেড় হাজার টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পণ্যের ওপর।

এসব বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশালের উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী বলেন, নাগরিকদের সুবিধার্থে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *