৭ মার্চ ২০২৬, শনি

বিয়ে শেষ, এবার ‘হারিয়ে’ যাবার সময় রাশমিকা–বিজয়ের

দক্ষিণ ভারতের দুই জনপ্রিয় তারকা বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা তাঁদের বিয়ের সপ্তাহজুড়ে চলা উৎসবের সমাপ্তি ঘটালেন তারকাখচিত এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। গতকাল ভারতের হায়দরাবাদ শহরের বিলাসবহুল হোটেল তাজ কৃষ্ণতে অনুষ্ঠিত বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় চলচ্চিত্রজগতের বহু পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই বিজয় জানান, টানা ব্যস্ততার পর এবার তাঁরা আবার ‘হারিয়ে’ যাবেন।

সপ্তাহজুড়ে উৎসব উপলক্ষে এক সপ্তাহ ধরে নানা আয়োজন চলছিল এই তারকা দম্পতির। ভক্তদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ, গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎ, মন্দির পরিদর্শন, পূর্বপুরুষদের গ্রামের ঐতিহ্যবাহী আচার এবং ২৩টি শহরে মিষ্টি বিতরণ—সব মিলিয়ে ছিল এক ব্যস্ত সময়সূচি। এসব আয়োজন শেষ করে বুধবার সন্ধ্যায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো এ উদ্‌যাপন।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে রসিকতা করে বিজয় দেবরাকোন্ডা বলেন, ‘আজ সব উদ্‌যাপন শেষ করে আমরা একটু আড়ালে যেতে চাই। আবার হারিয়ে যেতে চাই।’ তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাশমিকা মান্দানা হাসতে হাসতেই এ মন্তব্যে সায় দেন। তাঁদের এ মন্তব্যে উপস্থিত সবাই হাসিতে ফেটে পড়েন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দক্ষিণ ভারতের সংস্কৃতির ছাপ স্পষ্ট ছিল। রাশমিকা মান্দানা পরেছিলেন লাল রঙের মাইসোর সিল্ক শাড়ি, যার সোনালি ও কালো পাড়ে ছিল সূক্ষ্ম নকশা। শাড়িটিতে গন্ডবেরুন্ডা মোটিফের ঐতিহ্যবাহী কাজ ছিল। তাঁর চুল সাজানো ছিল লাল ফুলে, আর গলায় ছিল ভারী সোনার হারসহ ঐতিহ্যবাহী গয়না। কোমরে ‘ওডিয়ানাম’, হাতে পদ্ম নকশার চুড়ি এবং ঐতিহ্যবাহী হাতফুলে সাজ পূর্ণ করেন তিনি। রাশমিকার মা–ও অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী কোডাভা ধাঁচে শাড়ি পরে আসেন, যা তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতীক।

জানা যায়, কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলের ঐতিহ্য থেকেই এই সাজের অনুপ্রেরণা এসেছে। এর আগে রাজস্থানের উদয়পুরে অনুষ্ঠিত বিয়ের এক অনুষ্ঠানে একই সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল। বিজয় দেবরাকোন্ডার পরিবারও পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে উপস্থিত ছিল। দুই পরিবারের এই সাংস্কৃতিক উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতের অনেক জনপ্রিয় তারকা উপস্থিত ছিলেন। নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রজগতের সহকর্মীরাও সেখানে যোগ দেন।

অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি যেন এক ছোটখাটো চলচ্চিত্র উৎসবে পরিণত হয়। এই বিয়ে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। ভক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই এই জুটিকে একসঙ্গে দেখতে চেয়েছিলেন। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হওয়ায় তাঁদের শুভেচ্ছাবার্তায় ভরে গেছে সামাজিক মাধ্যম। বহু বছর ধরেই বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। যদিও দুজনেই দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলেছেন। তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে উপস্থিতি এবং পারস্পরিক সমর্থন ভক্তদের কাছে তাঁদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছিল। অবশেষে সেই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক রূপ পেল গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ের মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *