২৫ ফেব্রু ২০২৬, বুধ

ভেনেজুয়েলা থেকে ৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পেয়েছে আমেরিকা: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে ৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পেয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘নতুন বন্ধু ও অংশীদার’ ভেনেজুয়েলা থেকে ৮০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল গ্রহণ করেছে।

গত ৩ জানুয়ারি এক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভাষণে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, এই তেলের সরবরাহ মার্কিন অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

ভাষণের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো-

অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতি: ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত কমছে এবং মার্কিন অর্থনীতি আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। তিনি গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ২ দশমিক ৩০ ডলারের নিচে নেমে আসাকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখিয়েছেন।

সীমান্ত ও অভিবাসন: প্রেসিডেন্ট জানান, মার্কিন সীমান্ত এখন নিরাপদ। তবে তিনি নবাগত অভিবাসীদের জন্য ভিসা স্থগিত করার পদক্ষেপ নিলেও ‘আইনগত’ অভিবাসন রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা হয়েছে।

ইরান পরিস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প সতর্ক করেন, আমেরিকা যেকোনও হুমকি মোকাবিলায় পিছপা হবে না।

ট্রাম্প তার ভাষণে আরও বলেন, আমেরিকার ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালে দেশের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অভিবাসননীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের একটি বার্ষিক সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং ঐতিহ্যবাহী বক্তৃতা। এটি সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে কংগ্রেসের (সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) যৌথ অধিবেশনে দেওয়া হয়। এই ভাষণের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বিগত বছরের সাফল্যগুলো দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন এবং আগামী বছরের জন্য তার সরকারের প্রধান নীতি, লক্ষ্য ও পরিকল্পনাগুলো ঘোষণা করেন। এটি মূলত প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক ও নীতিগত রোডম্যাপ। সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *