১০ ফেব্রু ২০২৬, মঙ্গল

মঙ্গল গ্রহে প্রবাল আকৃতির পাথরের সন্ধান

নাসার কিউরিওসিটি রোভার সম্প্রতি মঙ্গল গ্রহে থাকা এমন একটি পাথরের ছবি পাঠিয়েছে, যা দেখতে হুবহু সমুদ্রের তলদেশে থাকা প্রবালের মতো। পাথরটি আকারে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার হলেও এর অদ্ভুত গঠন বিজ্ঞানীদের মধ্যে দারুণ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কিউরিওসিটি রোভার তার রোবোটিক হাতের শেষ প্রান্তে থাকা শক্তিশালী মার্স হ্যান্ড লেন্স ইমেজার ব্যবহার করে পাথরটির খুব কাছ থেকে ছবি তুলেছে।
পাথরটি দেখতে প্রবালের মতো হলেও বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রাণীর জীবাশ্ম বা প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ নয়। বরং এটি কোটি কোটি বছর ধরে চলা বিশেষ এক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফল। বিজ্ঞানীদের মতে, পাথরটি তৈরির পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। কোটি কোটি বছর আগে যখন মঙ্গলে তরল পানি ছিল, তখন সেই পানি পাথরের ফাটল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় তাতে দ্রবীভূত খনিজ পদার্থ জমা হতো। পরবর্তী সময়ে পানি শুকিয়ে গেলে সেই খনিজগুলো শক্ত হয়ে পাথরের ফাটলে জমাট বেঁধে যায়। আবার মঙ্গল গ্রহের শক্তিশালী বাতাস কয়েক যুগ ধরে চারপাশের নরম পাথর বা বালু সরিয়ে দিয়েছে, কিন্তু শক্ত খনিজ অংশ আগের মতোই রয়ে গেছে। ফলে এক সময়ের ফাটলে থাকা খনিজগুলোই এখন ডালপালার মতো বাইরের দিকে বেরিয়ে এসে প্রবালের আকার নিয়েছে।

পৃথিবীর মরুভূমি বা উপকূলীয় অঞ্চলেও ঠিক একই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় অদ্ভুত আকৃতির পাথর তৈরি হতে দেখা যায়। ২০১২ সালে মঙ্গল গ্রহে অভিযান শুরুর পর থেকে কিউরিওসিটি রোভার এমন অনেক পাথরের ছবি পাঠিয়েছে, যা দেখতে ফুল, বল বা স্তূপের মতো। এই কোরাল পাথরটি সেই তালিকার নতুন সংযোজন। এটি এককভাবে কোনো নাটকীয় পরিবর্তন না আনলেও মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ যে একসময় পানির উপস্থিতিতে অনেক বেশি সক্রিয় ছিল, তা আবারও প্রমাণ করল।

নাসার পাঠানো কিউরিওসিটি রোভার বর্তমানে নিয়মিতভাবে মঙ্গল গ্রহের মাটির রাসায়নিক গঠন পরীক্ষা করছে। রোভারটির সংগ্রহ করা ছোট ছোট তথ্য কাজে লাগিয়ে হয়তো একসময় জানা যাবে মঙ্গলগ্রহ কীভাবে একটি সজীব গ্রহ থেকে ধীরে ধীরে প্রাণহীন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *