১১ ফেব্রু ২০২৬, বুধ

মার্তিনেজের জায়গায় কি তবে টের স্টেগেন, বাজপাখি কি উড়াল দিচ্ছে অন্য কোনো নীড়ে

অ্যাস্টন ভিলার গোলবারের নিচে তিনি এখনো বিশাল আস্থার নাম। কখনো অকল্পনীয় সেভ, কখনো আবার প্রতিপক্ষকে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে ধসিয়ে দেওয়াএমিলিয়ানো মার্তিনেজ মানেই বাড়তি উন্মাদনা। সত্যি বলতে, এমি মার্তিনেজ আর অ্যাস্টন ভিলাগত কয়েক বছরে এই দুটো নাম যেন সমার্থক হয়ে উঠেছে।

কিন্তু ভিলা পার্কে কি এবার ফুরিয়ে এল ‘দিবু’র সময়? ইউরোপের ফুটবল পাড়ায় গুঞ্জন, বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষকের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার সুতায় ঝুলছে। আর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে ভিলা কোচ উনাই এমেরি হাত বাড়াতে পারেন বার্সেলোনার জার্মান দেয়াল মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেনের দিকে।

কেন হঠাৎ টের স্টেগেন? বার্সেলোনার হয়ে এক দশকের অভিজ্ঞতা, চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় আর অসংখ্য ট্রফিটের স্টেগেনের প্রোফাইল বেশ ভারী। কিন্তু তাঁরও সময়টা ভালো যাচ্ছে না। চোটে পড়ে দীর্ঘদিন বাইরে থাকার পর থেকেই দলে ব্রাত্য হয়ে গেছেন। ফিরে আসার পর মাত্র একটাই ম্যাচ খেলেছেন, এই মাসে কোপা দেল রেতে।

বোঝাই যাচ্ছে, বার্সায় এখন আর টের স্টেগেন আগের মতো ‘অটো চয়েস’ নন, এমনকি জার্মানি দলেও এক নম্বর জার্সিটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ঠিক এই সুযোগই নিতে চায় অ্যাস্টন ভিলা। উনাই এমেরির ফুটবল দর্শনে গোলরক্ষককে বল ডিস্ট্রিবিউশনে দক্ষ হতে হয়, আর এই কাজ টের স্টেগেনও পারেন খুব ভালো। মুন্দো দেপোর্তিভোর খবর, বার্সার আর্থিক টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে জানুয়ারিতেই এই জার্মানকে ইংল্যান্ডে উড়িয়ে নিতে পারে ভিলা।

তবে ওয়েস্ট হামের সাবেক স্ট্রাইকার মারলন হেয়ারউড অবশ্য এমিকে এখনই ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে ননতাঁর মতে, ‘এমি দারুণ করছেভিলা এখন একটা অজেয় যাত্রা পার করছে, আর এর পেছনে এমির অবদান অনস্বীকার্য। সত্যি বলতে কী, গোলকিপার হতে হলে আপনাকে আলাদা মানসিকতার মানুষ হতে হয়। সেরা গোলকিপার হতে গেলে সেই মানসিকতাটা দরকার। এমি মার্তিনেজকে দেখে মনে হয়, সে বড় কিছুর জন্যই তৈরি। ভিলা খুব ভাগ্যবান, এমন একজন গোলকিপার পেয়েছে। আশা করি, আরও একটি মৌসুম অন্তত ওকে তারা পাবে। এমন খেলোয়াড়ই তো আপনি নিজের দলে চান।’

তাঁকে নিয়ে যতই গুঞ্জন থাকুক, এমি মার্তিনেজও কিন্তু নিজের লক্ষ্যে অবিচল। টানা দুবার ব্যালন ডি’অরে বিশ্বসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ‘লেভ ইয়াশিন ট্রফি’ জেতা এই গোলরক্ষকের স্বপ্ন এখন দুটিঅ্যাস্টন ভিলাকে বহু প্রতীক্ষিত কোনো ট্রফি জেতানো আর ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে শিরোপা ধরে রাখা। ২০২৯ সাল পর্যন্ত ভিলার সঙ্গে চুক্তি আছে তার। কোচ এমেরিকে নাকি কথা দিয়েছেন, অন্তত একবার এফএ কাপের ফাইনাল খেলতে ওয়েম্বলিতে যাবেন।

মাঠে এমির উদ্‌যাপন কিংবা প্রতিপক্ষের পেনাল্টি রুখে দিয়ে কাঁধ নাচানোর সেই দৃশ্য ভিলার সমর্থকদের বড্ড প্রিয়। সেই প্রিয় মুখটি কি সত্যিই বিদায় নেবে?

আপাতত ভিলা পার্কের বাতাসে এই একটাই প্রশ্নবাজপাখি কি উড়াল দিচ্ছে অন্য কোনো নীড়ে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *