২০ ফেব্রু ২০২৬, শুক্র

যেসব খাবার দিয়ে ইফতার শুরু করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

ইফতারে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে পেটের সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সারা দিন রোজা রাখার পর এমন খাবার খেতে হবে, যেটা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াবে, নিয়ন্ত্রণে রাখবে গ্লুকোজের মাত্রা। এ জন্য একজন ব্যক্তির জীবনযাপন–পদ্ধতি, বয়সসহ বিদ্যমান রোগ এবং অন্যান্য চিকিৎসাগত প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিনির্ভর খাদ্য পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত।

ইফতারে কী খাবেন

অনেকেই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এতে আছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক এবং বিভিন্ন ভিটামিন। খেজুর শরীরে শক্তি সরবরাহ করে, হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে এবং হজমে সহায়তা করে।

পানিশূন্যতা রোধ এবং বিপাকক্রিয়ার জন্য শরবত গ্রহণ করতে পারেন। শরবতে ইসবগুল, তোকমা, কাঁচা আম, তেঁতুল মিলিয়ে নিতে পারেন। লেবুর তৈরি শরবত বা ডাবের পানিও খেতে পারেন।

তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে ও ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে চিনি, গুড়, মধু বাদ দিলে ভালো। পরিমাণমতো বিকল্প চিনি ব্যবহার করা যেতে পারে। শর্করা গ্রহণের ক্ষেত্রে মুড়ি বা পপকর্ন বা চিড়া অথবা খই খেতে পারেন।

সবজি, ফল, টক দই, দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করা যেতে পারে। চিনি, গমের ময়দা, ভুট্টা, সাদা চাল ও আলুর মতো অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত শস্যজাত খাবার পরিহার বা সীমিত করা উচিত।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে শর্করা সমৃদ্ধ খাবারের তুলনায় আমিষ এবং ভালো মানের চর্বি সমৃদ্ধ খাবার পেট ভরাতে ভালো ভূমিকা রাখে।

তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে যেমন কারও যদি ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো জটিলতা যেমন কিডনির রোগ, উচ্চ মাত্রার ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি থাকে, তাহলে ডাল ও ডাল–জাতীয় খাবারের পরিবর্তে মুড়ি, চিড়া এবং চালের গুঁড়া অথবা অ্যারারুটের তৈরি শিঙাড়া বা সমুচা, আলুপুরি, আলুর চপ ইত্যাদি খেতে পারেন।

আর বেশি ওজনের সমস্যা ও আলসার বা গ্যাসট্রাইটিসের সমস্যা থাকলে ডুবোতেলে ভাজা ও ঝালযুক্ত খাবারের পরিবর্তে কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে হবে। অথবা কম তেলে রান্না ও কম ঝালযুক্ত খাবার খেতে হবে।

অন্যান্য খাবার একই থাকবে। গর্ভাবস্থায় রোজা রাখতে চাইলে তাহলে অবশ্যই গর্ভকালীন খাদ্য ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী খেতে হবে।

ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ইফতারির খাবারের পরিমাণ হবে অন্যান্য সময়ের রাতের খাবারের সমপরিমাণ। অন্যথায় হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

কীভাবে শুরু করবেন

ইফতার আমরা বিভিন্ন ধাপে ধাপে গ্রহণ করতে পারি। যেমন প্রথম ধাপে পানি, খেজুর দিয়ে শুরু করতে পারি। দ্বিতীয় ধাপে বিভিন্ন ধরনের পানীয় পান করতে পারেন। পরবর্তী ধাপে অন্যান্য খাবার দিয়ে ইফতার শেষ করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *