রোজা রাখার নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিত উপবাস ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ কমাতেও ভূমিকা রাখে। তবে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন- যাদের হৃদরোগ, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের রমজানে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় না খাওয়ার ফলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে, যা হৃদরোগীদের জন্য জটিলতা তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসকের মতে, যাদের সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বা হার্ট সার্জারি হয়েছে, তাদের রোজা না রাখাই ভালো। একইভাবে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের ছন্দের সমস্যায় ভোগা রোগীদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
রমজানে সুস্থ থাকতে হৃদরোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ—
ইফতারে অতিরিক্ত খাবেন না
দীর্ঘক্ষণ না খাওয়ার পর হঠাৎ বেশি খেলে শরীরে চাপ পড়ে। অতিরিক্ত খাবার ওজন বৃদ্ধি এবং হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তাই পরিমিত ও ভাগ করে খাবার খাওয়াই উত্তম।
পানি ও তরল গ্রহণ বাড়ান
ডিহাইড্রেশন বা ‘হাইপোভোলেমিয়া’ এড়াতে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। সাধারণত অন্তত ৮ গ্লাস তরল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে ওষুধের সময়সূচি চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।
ক্যাফেইন কমান
চা, কফি ও কোমল পানীয় কম খাওয়া উচিত। ক্যাফেইন হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং শরীরের পানিশূন্যতা বাড়ায়।
স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন
ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য ও চর্বিহীন প্রোটিন রাখুন খাদ্যতালিকায়। এতে বিপাকীয় জটিলতা, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
খাবার ও পানি ভাগ করে খান
ইফতারের পর একসঙ্গে বেশি খাবার ও পানি না খেয়ে সময় নিয়ে অল্প অল্প করে গ্রহণ করুন।
হালকা ব্যায়াম করুন
ইফতারের ১–২ ঘণ্টা আগে বা পরে হালকা হাঁটা, স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলতে হবে।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
কম ঘুম হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। তাই নিয়মিত ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রোজা শুরুর আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা এবং নিয়মিত রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করা। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া হৃদরোগীদের রোজা না রাখাই নিরাপদ।

