১০ ফেব্রু ২০২৬, মঙ্গল

লেবুর মতো নতুন এমন গ্রহ আগে দেখেনি বিজ্ঞানীরা

মহাকাশ মানেই রহস্য। সেখানেই প্রতিনিয়ত মিলছে বিচিত্র সব গ্রহের খোঁজ। এবার বিজ্ঞানীরা এমন এক গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যার আকার প্রচলিত সব ধারণা পাল্টে দিয়েছে। বৃহস্পতি গ্রহের সমান এই গ্রহটি গোল নয়, বরং দেখতে অনেকটা লেবুর মতো।

নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে ধরা পড়া এই অদ্ভুত গ্রহটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাইকেল ঝাং জানান, সেখানে এমন একধরনের বায়ুমণ্ডল রয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। সাধারণত কার্বন অক্সিজেন বা নাইট্রোজেনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। কিন্তু এই গ্রহে কার্বন পাওয়া গেছে একেবারে বিশুদ্ধ আকারে, যা বিজ্ঞানীদের কাছে প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। কোনো গ্রহ কীভাবে এমন উপাদানে গঠিত হতে পারে, তা এখনো বড় ধাঁধা।

পিএসআর জে২৩২২-২৬৫০বি নামের এই গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৭৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। গ্যাসযুক্ত গ্রহটি কোনো সাধারণ নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে নয়, বরং একটি পালসার বা নিউট্রন স্টারের চারদিকে ঘুরছে। নিউট্রন স্টার হলো মৃত নক্ষত্রের অতিঘন অংশ, যেখানে পুরো সূর্যের সমান ভর একটি ছোট শহরের আয়তনের মধ্যে সংকুচিত হয়ে থাকে। গ্রহটির বিভিন্ন তথ্য দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটারসে প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, গ্রহটি তার নক্ষত্র থেকে মাত্র ১০ লাখ মাইল দূরে অবস্থান করছে। এত কাছাকাছি থাকায় নিউট্রন স্টারের প্রচণ্ড অভিকর্ষজ বল গ্রহটিকে টেনে লম্বাটে করে ফেলেছে। এর ফলেই গ্রহটি একটি নিখুঁত লেবুর আকৃতি পেয়েছে। সেখানে দিনের বেলায় তাপমাত্রা ২ হাজার ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়, আর রাতে তা নেমে আসে প্রায় ৬৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

গ্রহটির বায়ুমণ্ডল অন্য যেকোনো এক্সোপ্ল্যানেটের তুলনায় আলাদা। সাধারণত ভিনগ্রহে পানি, মিথেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইডের অণু পাওয়া যায়। কিন্তু এখানে মিলেছে কার্বনের বিরল অণু ও হিলিয়াম। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এর বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ভস্ম বা ঝুলকালির মতো মেঘ রয়েছে। গ্রহটির ভেতরে প্রচণ্ড চাপে সেই কার্বন ঘনীভূত হয়ে হিরায় পরিণত হতে পারে।

গ্রহটি খুব দ্রুত তার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। ফলে সেখানে মাত্র ৭ দশমিক ৮ ঘণ্টায় এক বছর পূর্ণ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটস ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী পিটার গাও জানান, গ্রহটি শীতল হওয়ার সময় কার্বন ও অক্সিজেন আলাদা হয়ে ভেতরে স্ফটিক আকার ধারণ করে থাকতে পারে। তবে সেখানে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন কেন অনুপস্থিত, সেই রহস্য এখনো অমীমাংসিত।

সোর্স: ডেইলি মেইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *