ঢাকার সাভারে একটি বাসায় আগুন লাগার ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ইসলামনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন স্থানীয় লোকজন।
গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন লেগেছে—এমন খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ওই বাড়ির মালিকের এক ছেলে আগুন দিয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় কয়েকজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দগ্ধ ওই শিক্ষার্থীর নাম সাইফুল ইসলাম (রনি)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। দগ্ধ অপর তিনজন হলেন—ওই বাড়ির মালিক আবদুর রহমানের দুই ছেলে মো. রায়হান ও মো. রাহাত এবং এলাকার ভাড়াটিয়া মো. হাসিনুর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের খণ্ডকালীন চিকিৎসক অমিতাভ দাস বলেন, গুরুতর দগ্ধ হয়ে দুজন সেখানে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। এ ছাড়া আরও দুজন দগ্ধ হয়ে সাভারে চিকিৎসা নিতে গেছেন বলে জেনেছেন তিনি। যে দুজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে আহত সাইফুল ইসলামের শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই বাড়ির মালিকের দুই ছেলের মধ্যে প্রায় দ্বন্দ্ব চলে। গতকাল এমনই এক দ্বন্দ্বের জেরে মো. রায়হান তাঁদের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে বাসার মালিকের পূর্বপরিচিত সাইফুল ইসলাম ও হাসিনুর বিবাদ মেটাতে যান। একপর্যায়ে মো. রায়হান গ্যাস লাইটার জ্বালালে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভান।
আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তাঁদের সঙ্গে সেখানে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা–বিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক। আহত হাসিনুরের বরাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই দ্বন্দ্ব মেটাতে রনি ও হাসিনুর ওই বাসায় যান। বাসায় রায়হান পেট্রল ঢেলে রেখেছিলেন। একপর্যায়ে তিনি গ্যাস লাইট জ্বালালে আগুন ধরে যায়।
সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, চারজন দগ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আশুলিয়ার জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আহমেদুল কবীর বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দিয়েছিল। তবে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

