১০ ফেব্রু ২০২৬, মঙ্গল

সিরিজ বাঁচাতে বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে ইংল্যান্ডকে

এক সেশনেউইকেটঅন্য কোনো সময়ে এমন একটা সেশন স্বস্তিই এনে দিত ইংল্যান্ড শিবিরেকিন্তু অ্যাডিলেড টেস্টে দলটাকে এই সেশন মোটেও স্বস্তি দিতে পারছে নাতার আগেই যে চালকের আসনে বসে গেছে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াচতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে ৩৪৯ রানে অলআউট হওয়া অজিদের লিড দাঁড়িয়েছে ৪৩৪ রানের। ফলে এখন ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ইংলিশদের সিরিজের আশা টিকিয়ে রাখতে হলেও গড়তে হবে এক বিশ্বরেকর্ড।

টেস্টে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার বিশ্বরেকর্ডটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই রামনরেশ সারওয়ান আর শিবনারায়ন চন্দরপলের সেঞ্চুরিতে ৪১৭ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর থেকে ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও যে রেকর্ড ভাঙা হয়নি আর কারও। ইংল্যান্ডের সামনে এই বিশ্বরেকর্ড ভাঙার হাতছানি। তবে দলের অবস্থা যেমন, তাতে অ্যাশেজ হারই চোখরাঙানি দিচ্ছে বৈকি!

চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়া আবার ব্যাট করতে নামে ৪ উইকেটে ২৭১ রান নিয়ে। হেড উইকেটে ছিলেন ১৪২ রান নিয়ে। ক্যারি অপরাজিত ছিলেন ৫২ রানে। শুরুতেই ঢিলেঢালা বোলিংয়ের সুযোগ নেয় অস্ট্রেলিয়া।

আগের দিন বেন স্টোকস বল করেননি। সহকারী কোচ জিতান প্যাটেল জানিয়েছিলেন, তিনি খুব ক্লান্ত। পুরো দলই যে ক্লান্ত, সেটা দলের দেহভাষ্যেই ছিল পরিষ্কার। আজ শনিবার স্টোকস নিজেই বোলিং শুরু করেন। হেড দ্রুত রানে ফেরেন। ২০৫ বলে তিনি ১৫০ পূর্ণ করেন।

ডাবল সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছিলেন ট্র্যাভিস হেড। তবে জশ টাংয়ের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ডিপে জ্যাক ক্রলির হাতে ধরা পড়েন। হেড বিদায় নেন ১৭০ রানের দারুণ ইনিংস খেলে।

ক্যারি আগের ইনিংসে ১০৬ রান করেছিলেন। টানা দুই সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন। তবে লেগ স্লিপে হ্যারি ব্রুকের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ৭২ রান করে স্টোকসের বলে তিনি বিদায় নেন।

এরপর জশ ইংলিস ১০ রান করে আউট হন। নতুন বল নেওয়ার পর প্যাট কামিন্স ৬ রান করে ফেরেন। নাথান লায়ন পরের বলেই এলবিডব্লিউ হন। শেষ ব্যাটার স্কট বোলান্ডও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জোফরা আর্চারের বলে ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ড হন তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে জশ টাং ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। তিনি ৭০ রানে নেন ৪ উইকেট।

এরপর লাঞ্চের আগে ব্যাট করতে নেমে বিপদে পড়ে সফরকারীরা। দ্বিতীয় ওভারেই চার রানে থাকা বেন ডাকেট আউট হন। প্যাট কামিন্সের বলে দ্বিতীয় স্লিপে মার্নাস লাবুশেনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। লাঞ্চে ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৫ রান। অলি পোপের রান ছিল ১। জ্যাক ক্রলি তখনো খাতা খোলেননি।

৩১ রানে ২ উইকেট খোয়ানোর পর ধস সামাল দেওয়ার চেষ্টায় আছে ইংলিশরা। প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত ১০৬ রান তুলেছে আর কোনো উইকেট না খুইয়ে।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এর আগে পার্থ ও ব্রিসবেনে আট উইকেটে হেরেছে ইংল্যান্ড। তাই সিরিজে টিকে থাকতে এই ম্যাচে জয় দরকার। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার জন্য ড্র-ই যথেষ্ট।

By Fhrakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *