‘কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!’ — ক্রিকেট বোধ হয় বাসে। নাহয় একই দিনে ঘটে যাওয়া দুটো ঘটনা কেন প্রায় এক দশক আগের এক দুঃসহ বেদনার স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে?
গতকাল একই দিনে ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ১০০০০ কিলোমিটার এদিক ওদিকে দুটো সুপার ওভার দেখল ক্রিকেট। দুটোর সমাপ্তিটাই একই রকম, ১০ বছর আগে যেমন হয়েছিল। এই ঘটনা কাকতালীয়ভাবে মাঠে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের মনেও উসকে দিল ২০১৬ বিশ্বকাপের সেই স্মৃতিকে।
২০১৬ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ভারতকে হারানোর খুব কাছে চলে গিয়েছিল। শেষে সমীকরণটা এসে ঠেকেছিল ৩ বলে ২ রানে, সেটা তুলে ফেলতে পারলেই কাজটা সেরে ফেলতে পারত মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
এরপর যা হলো, তা কোনো বাংলাদেশি সমর্থক নিশ্চয়ই মনে করতে চাইবেন না। ক্রিজে সেট ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পরপর দুই বলে আউট হলেন। শেষ বলে মোস্তাফিজুর রহমান বল লাগাতে পারলেন না ব্যাটে, একটা রান নিয়ে সুপার ওভারে নিতে চেয়েছিলেন খেলাটা, সেটাও হলো না। পেছন থেকে মহেন্দ্র সিং ধোনি এসে দৌড়ে ভাঙেন স্টাম্প। অবিশ্বাস্যভাবে ১ রানে ম্যাচটা হারে বাংলাদেশ।
২০২৬ সালের প্রথম দিনে সেই স্মৃতি যেন ফিরে ফিরে এল। ভিনদেশের গল্পটাই বলা যাক। জোহানেসবার্গে জোবার্গ সুপার কিংসের বিপক্ষে শেষ বলে ১ রান প্রয়োজন ছিল ডারবান সুপার জায়ান্টসের। উইয়ান মুল্ডারের ডেলিভারিটায় সাইমন হারমার ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি। বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ডানোভান ফেরেইরার কাছে, সেখান থেকে তার থ্রো এসে ভাঙে স্টাম্প। খেলা চলে যায় সুপার ওভারে। সেখানে হেসেখেলেই ম্যাচ জেতে ফেরেইরার দল
মূল খেলায় প্রতিপক্ষ শেষ বলে ১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি, শেষ বলে উইকেটরক্ষক ভেঙে দিচ্ছেন স্টাম্প। ২০১৬ সালের স্মৃতি মনে করেই জবার্গের অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি এমন কিছু করতে বলেছিলেন বোলার মুল্ডারকে।
তিনি বলেন, ‘অনেক দিন আগের একটা খেলা মনে আছে যখন ধোনি ভারতের হয়ে উইকেটের পিছনে ছিলেন। আমার মনে হয় এটা বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ছিল। শেষ বলে বোলার একটি কাট বল ছুঁড়েছিল, যা সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং সেই স্মৃতি আমার মাথায় ছিল। আমি মুল্ডারকে ব্যাটসম্যানের উপর দিয়ে শর্ট বল করতে বলেছিলাম।’ তার ফলাফলটা দেখতেই পাচ্ছেন!
তার ঘণ্টা চারেক আগে সেই ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়েছিল খোদ বিপিএল। শেষ বলে ১ রানের প্রয়োজন ছিল, সে সমীকরণটা মেলাতে পারেনি রংপুর রাইডার্স। ম্যাচটা হেরেছে সুপার ওভারে গিয়ে।
এরপর রংপুর কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলেরও মনে পড়ে গিয়েছিল সেই ম্যাচের স্মৃতিটা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘শেষ ওভারে নুরুল হাসান সোহান একটা চার মারল। পরে সেই ভারত ম্যাচের মতো হয়ে গেল ব্যাপারটা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা ৩ বলে ২ রান নিতে পারিনি।’
২০১৬ সালের সেই ম্যাচের সঙ্গে গতকাল বিপিএলের এই ম্যাচের একটা মিল আছে। সেই ম্যাচে ২ রানের সমীকরণ মেলাতে না পারায় দায় ছিল অন্তত ৩ ব্যাটারের, তার একজন ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কাকতালীয়ভাবে গতকালকের ১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারল না রংপুর, ব্যাটার কে ছিলেন জানেন? আবারও সেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
তবে ১০ বছর আগের সেই ম্যাচের ব্যর্থতার আরেক খল চরিত্র ছিলেন মুশফিকুর রহিম। গতকাল রিয়াদের এই ব্যর্থতায় তিনি বোধ হয় বেশ আনন্দই পেয়েছেন। কেনই বা পাবেন না? তিনি যে ছিলেন উইকেটের ঠিক পেছনে!

