২ মে ২০২৬, শনি

ফরিদপুরে ট্রাকের ধাক্কায় আহত ৭, গণপিটুনিতে চালক নিহত

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় সাতজন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজনের পিটুনিতে ট্রাকচালক নিহত হন। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চালক বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া নতুনহাটখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গণপিটুনিতে ট্রাকে থাকা আরও দুজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত ট্রাকচালকের নাম মো. হান্নান (৪৫)। তাঁর বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর গ্রামে।

ট্রাকে থাকা আহত ব্যক্তিরা হলেন চালকের সহকারী নাঈম (২২)। তাঁর বাড়ি সালথা উপজেলার সোনাখোলা গ্রামে। আরেকজন হলেন আল-আমিন (২৫)। তাঁর বাড়ি সালথার কাগদী এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সালথা উপজেলার বালিয়া গুটির দিক থেকে আসা একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে আসছিল। ট্রাকটির বেপরোয়া গতির কারণে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে রসুলপুরসহ আশপাশের এলাকায় একাধিক পথচারীকে চাপা দিয়ে ট্রাকের চালক পালিয়ে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ট্রাকটির ধাক্কায় অন্তত সাতজন পথচারী আহত হন। পরে ট্রাকটি নগরকান্দার তালমার বিলনালিয়া নতুনহাটখোলা এলাকার একটি দোকানে সজোরে ধাক্কা দিলে ক্ষুব্ধ জনতা সেটির গতি রোধ করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা ট্রাকচালকসহ তিনজনকে পিটুনি দেন। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন। ট্রাকটিতেও ভাঙচুর চালানো হয়।

সালমা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ নুরুল ইসলাম বলেন, সালথার দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা ওই ট্রাক নতুনহাটখোলা বাজারে একটি দোকানে আঘাত করে। পরে গণপিটুনিতে চালক নিহত হন।

তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। এর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রাকচালকসহ তিনজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।’

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, ট্রাকের ধাক্কায় আহত ব্যক্তিদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চালকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *