৫ মে ২০২৬, মঙ্গল

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কা


হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকে গুরুতর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সরাসরি হস্তক্ষেপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে—হরমুজে যেকোনো মার্কিন উদ্যোগের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র রাজনৈতিক শাখার উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ ইরানের সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে। ইরানি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-কে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ উন্মুক্ত করা। তিনি বলেন, ৪০ দিনের যুদ্ধের সময় ও পরবর্তী পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র নানা পথে চেষ্টা চালিয়েও সফল হয়নি।

জাভানি আরও বলেন, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে হরমুজ খুলে দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের পরাশক্তির ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতির পরিমাণ ইরানের তুলনায় অনেক বেশি হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের সব সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হবে।

এদিকে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দুইটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে জলপথ পার হতে সহায়তা করেছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলো জানাচ্ছে, বাস্তবে হরমুজ প্রণালি এখনও প্রায় অচল।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, হরমুজে আটকে থাকা জাহাজগুলো ৮৭টি দেশের এবং তারা এই সংঘাতের নির্দোষ পক্ষ। সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ সংকটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ৫০টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে, যাতে তারা আমেরিকার আরোপ করা নৌ অবরোধের শর্ত মেনে চলে—যার অর্থ, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ এখনও বহাল।

অন্যদিকে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনো তেহরানের হাতেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপ এতে পরিবর্তন আনতে পারেনি। তাদের অনুমোদন নিয়েই প্রণালিটি পার হতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থায় সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকে বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *