৯ মে ২০২৬, শনি

তরমুজ-খরমুজ খাওয়ার পর পানি খেলে কী সমস্যা হতে পারে জেনে নিন

তরমুজ-খরমুজের মতো গ্রীষ্মকালীন ফল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন— তরমুজ বা খরমুজের মতো ফল খাওয়ার পর কি পানি খাওয়া উচিত? তরমুজ বা খরমুজ খাওয়ার ঠিক পরেই পানি পান করা এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এতে হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা, গ্যাস কিংবা পেটে ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। আর তরমুজে ৯০ শতাংশের বেশি পানি থাকে। তাই খাওয়ার পরপরই আবার পানি খেলে পাকস্থলীর অ্যাসিড পাতলা হয়ে যায়, যা হজমে বাধা সৃষ্টি করে।
সাধারণত তরমুজ বা খরমুজ খাওয়ার অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট পর পানি পান করা উচিত। এ সময়ের পর পানি পান করলে সবচেয়ে নিরাপদ। আপনার যখনই তৃষ্ণা পাবে স্বাভাবিক তৃষ্ণা অনুযায়ী পানি পান করতে পারেন। যদিও খাবারের পরপরই পানি না খাওয়া ভালো। যাদের পেটের সমস্যা বা আইবিএস আছে, তাদের অবশ্যই সাবধান থাকা উচিত।

সারা বছর ফল না খেলেও গ্রীষ্মকালে কোনো উপায় নেই। এই মৌসুমে সুস্থ থাকার দাওয়াই হলো গ্রীষ্মকালীন ফল। বিশেষত তরমুজ ও খরমুজের মতো রসালো ফল বেশি করে খাওয়া উচিত। এ ধরনের ফলে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি পানি থাকে। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি হজম স্বাস্থ্যের জন্যও উপযোগী এই ফল। কিন্তু অনেকেরই প্রশ্ন: তরমুজ ও খরমুজের মতো ফল খাওয়ার পর কি জল খাওয়া উচিত?

ফল স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী। কিন্তু অনেক সময়ে তা হজম করা কঠিন হয়। ফল হজম হতে একটু বেশি সময় নেয়। ওই সময়ে পাকস্থলী থেকে বিভিন্ন ধরনের উৎসেচক ও অম্লরস বের হয়। এর মধ্যে যদি পানি খান, তখন স্বাভাবিকভাবেই হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। অম্লরসের সঙ্গে পানি মিশে যায় এবং পেটে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। এর জেরে গ্যাসের সমস্যা বাড়ে।

আর কী সমস্যা দেখা দিতে পারে?

হজম না হওয়া ফলের অংশ অনেক সময়ে খাদ্যনালিতেই থেকে যায়। তখন গ্যাস-অম্বল, ফুড পয়োজনিংয়ের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এর পাশাপাশি শরীরের পিএইচ স্তরের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তরমুজ, খরমুজ, শসা, লেবুজাতীয় ফলের মধ্যে জলের পরিমাণ বেশি থাকে। তার সঙ্গে আবার জল খেলে স্বাভাবিক ভাবেই পিএইচ স্তরের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় এবং ব্যাঘাত ঘটে হজম স্বাস্থ্যে। তাই এই ধরনের ফল খাওয়ার পরে জল খেলে হজমের সমস্যায় ভুগতেই হবে।

এই তুচ্ছ বীজেই কমবে সুগার-কোলেস্টেরল, কী ভাবে খাবেন আমের আঁটি?
রক্তে শর্করার মাত্রার উপর কি কোনও প্রভাব পড়ে?

যে সব ফলে জলের পরিমাণ বেশি, সেগুলো ডায়াবিটিসের রোগীরা খেতে পারেন। কিন্তু সেই ফলগুলো খাওয়ার পরেই জল খেলে ইনসুলিন হরমোনের ক্ষরণ বিঘ্নিত হয়। তখন হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই ফল খাওয়ার সময়ে এই ভুল না করাই ভালো।

ফল খাওয়ার সময়ে কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন?

গ্রীষ্মকালে সব সময়ে তাজা ও রসালো ফল খাওয়া উচিত। তা বলে রাস্তার কাটা ফল খাবেন না। পাশাপাশি ডায়াবিটিসে ভুগলে বা হজমের সমস্যা থাকলে সীমিত পরিমাণে ফল খাওয়া উচিত। ভারী খাবার, দুধ এবং ভাজাভুজিত সঙ্গে ফল খাবেন না।

কোন সময়ে ফল খাওয়া উচিত?

সকালের খাবার ও মধ্যাহ্নভোজের মাঝে ফল খেতে পারেন। তবে রাতে ফল না খাওয়াই ভালো। এ সমস্যা হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শরীর রেস্ট মোডে যায়। তাই রাতে ফল খেলে বদহজমে ভুগতে পারেন।a

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *