১১ মে ২০২৬, সোম

আমের মৌসুম পুরোপুরি শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। এরই মধ্যে বাজারে দেখা যাচ্ছে আকর্ষণীয় হলুদ রঙের নানা আম।

বাইরে থেকে এসব আম দেখতে নরম ও পাকা মনে হলেও কাটার পর অনেক সময় ভেতরে শক্ত, সাদাটে এবং স্বাদে টক পাওয়া যায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এসব আম কি সত্যিই প্রাকৃতিকভাবে পাকা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত পাকানোর জন্য আমে ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। তাই বাজার থেকে আম কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।

গাছপাকা ও রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চিনবেন যেভাবে

রঙে পার্থক্য

প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে সাধারণত রঙের ভিন্নতা থাকে। পুরো আম একেবারে সমান হলুদ হয় না; কোথাও সবুজাভ বা লালচে আভা থাকতে পারে। গায়ে ছোটখাটো কালচে দাগও স্বাভাবিক। অন্যদিকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম অস্বাভাবিক উজ্জ্বল, অতিরিক্ত চকচকে এবং প্রায় পুরোপুরি হলুদ বা লালচে দেখায়।

ঘ্রাণে ভিন্নতা

গাছপাকা আমে থাকে মিষ্টি ও স্বাভাবিক সুগন্ধ। কিন্তু রাসায়নিক ব্যবহার করা আমে সেই ঘ্রাণ কম থাকে, বরং কখনও কটু বা ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়া যায়।

পানিতে পরীক্ষা

একটি পাত্রে পানি নিয়ে আম ডুবিয়ে দিলে সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম তলিয়ে যায়। তবে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কিছু আম পানিতে ভেসে থাকতে পারে। যদিও শুধু এই পরীক্ষার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা ঠিক নয়।

স্বাদ ও গঠন

রাসায়নিকযুক্ত আম অনেক সময় বাইরে থেকে পাকা দেখালেও ভেতরে শক্ত থাকে। স্বাদেও মিষ্টির বদলে টক বা বিস্বাদ ভাব থাকতে পারে। এমনকি খাওয়ার পর জিভ বা গলায় অস্বস্তিও অনুভূত হতে পারে।

যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়

অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রুত আম পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করে থাকে। এই পদার্থ বাতাসের সংস্পর্শে এসে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করে, যা দ্রুত ফল পাকাতে সাহায্য করে। তবে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়া আমের রঙ আরও আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন ধরনের স্প্রেও ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আম কেনার সময় শুধু উজ্জ্বল রঙ দেখে আকৃষ্ট না হয়ে গন্ধ, গঠন ও স্বাভাবিকত্ব যাচাই করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *