১৪ মে ২০২৬, বৃহঃ

গরমের দিনগুলোতে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে যা খাবেন

গরমের তীব্রতায় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে শসা, তরমুজ, ডাব, টকদই, লেবুর শরবত, পুদিনা পাতা, লাউ এবং মৌসুমি রসালো ফল বেল ও বাঙ্গি নিয়মিত খান। এসব খাবার আপনার শরীর শীতল রাখবে। সেই সঙ্গে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ এবং পরিপাকে সহায়তা করবে। তবে ভারি ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
কারণ গরমের দিনগুলোতে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম ঝরে যায়। ফলে আপনার শরীর থেকে প্রয়োজনীয় সোডিয়াম পটাশিয়ামের মতো জরুরি খনিজ বেরিয়ে যায়। এতে আপনার শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন আপনার শরীরে ডিহাইড্রেশন কিংবা পানিশূন্যতা দেখা যায়। এ অবস্থাকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়— ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা।

গরমে আপনার শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে বেশ কিছু খাবার বেশ উপকারী।

যেমন— ডাবের পানি। ডাবের পানি আপনার শরীরে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের জোগান দেয়। এটি শুধু পানিশূন্যতাই দূর করে না; বরং প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে থাকে। আর গরমে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে নিয়মিত ডাবের পানি খাওয়া উচিত। আবার যারা দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করেন, তাদের স্যালাইন খাওয়া জরুরি। এটি সোডিয়াম ও শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। সুস্থ থাকতে দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করুন।

আর গরমে অতিরিক্ত ঘামলে আপনার শরীর থেকে সোডিয়াম বেরিয়ে যায়। ফলে আপনার শরীরের রক্তচাপ কমে যায়। লেবুর শরবতের সঙ্গে সামান্য লবণ ও চিনি মিশিয়ে খেলে রক্তে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য খুব দ্রুতই ফিরে আসে। এ পানীয় ভিটামিন ‘সি’র চাহিদা মিটিয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে তোলে।

আবার যারা দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করেন, তাদের স্যালাইন খাওয়া জরুরি। এটি সোডিয়াম ও শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। সুস্থ থাকতে দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করুন।

এ ছাড়া গরমের দিনে অন্যতম সেরা পানীয় হচ্ছে ঘোল। এটি প্রোবায়োটিকে ভরপুর। ঘোলের মধ্যে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খেলে আপনার শরীরের সোডিয়ামের ঘাটতি দ্রুত পূরণ হয়। দুপুরের রোদে বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এক গ্লাস ঠান্ডা ঘোল খেলে আপনার শরীরের সতেজতা ফিরে আসে।

আবার প্রচণ্ড গরমে তাজা ফলের রস আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেয় এবং খনিজ লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে প্যাকেটজাত ফলের রস খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ ফলের রস খেলে চিনি ছাড়া খাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা বজায় রেখে হৃৎপিণ্ডকেও ভালো রাখতে সাহায্য করে থাকে।

আর গ্রীষ্মে আপনার শরীর হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে তরমুজ। কারণ তরমুজে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি থাকে, যা গ্রীষ্মে হাইড্রেটেড থাকার আদর্শ উপায় বলা হয়। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম পেশির টান বা ক্র্যাম্প কমাতে দারুণ সাহায্য করে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *