২৬ মে ২০২৬, মঙ্গল

ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত গোয়াইনঘাট, খরা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো পর্যটক বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। দীর্ঘ ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, পান্তুমাইসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো প্রতিবছর ঈদের সময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। এবারও সেই প্রত্যাশায় আবাসিক হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউস, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।

তবে গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে জাফলংসহ গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ছিল পর্যটক খরা। আশানুরূপ ভিড় না থাকায় লোকসানের মুখে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ছুটির দিনগুলোতেও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে কাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি দেখা যায়নি।

ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটক কম থাকায় দোকানপাট, খাবার হোটেল ও পর্যটননির্ভর ব্যবসার আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে ঈদকে ঘিরে তারা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ পানির সমাহারে ঘেরা গোয়াইনঘাটের পর্যটন স্পটগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঝরনা ও নদীগুলো নতুন রূপ ধারণ করেছে, যা পর্যটকদের আরও আকর্ষণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ আবাসিক হোটেল ও মোটেল আগাম বুকিং হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে এবার পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের ধারণা, ঈদ মৌসুমে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।

পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। কসমেটিকস, হস্তশিল্প ও বাহারি পণ্যের দোকানগুলোতেও বেড়েছে প্রস্তুতি।

তবে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের শঙ্কা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, আবহাওয়া খারাপ হলে পর্যটক আগমন কমে যেতে পারে।

জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. হোসেন মিয়া বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে এবার পর্যটকের ব্যাপক সমাগম হবে বলে আশা করছি। সে অনুযায়ী ব্যবসায়ীরাও প্রস্তুতি নিয়েছেন।

জাফলং পর্যটন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি বাবলু বখত বলেন, ঈদের ছুটিতে প্রায় সব হোটেলের রুম আগেই বুকিং হয়ে যায়। এবারও কয়েক লাখ পর্যটক আসতে পারেন বলে আশা করছি। পর্যটকরা যেন নিরাপদে ও স্বল্প খরচে থাকতে পারেন, সেটি নিয়েই আমরা কাজ করছি।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যটন এলাকায় বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও রোভার স্কাউট সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *