২ জুন ২০২৬, মঙ্গল

চলতি জুন থেকেই বিদ্যুতের বাড়তি দাম কার্যকর হতে যাচ্ছে।

চলতি জুন থেকেই বিদ্যুতের বাড়তি দাম কার্যকর হতে যাচ্ছে। আগামীকাল ৩ জুন বিদ্যুতের এ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে বলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে গতকাল নিশ্চিত করেছেন। এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম কত শতাংশ বৃদ্ধি পাবে তার চূড়ান্ত হিসাব শেষ করেনি বিইআরসি। তবে এবার ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। লাইফলাইন গ্রাহক বা দরিদ্রদের জন্য বিদ্যুৎ বিলের স্ল্যাবে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। কিন্তু বিদ্যুতের সামান্য বাড়তি বিল এই গ্রাহকদেরও বহন করতে হতে পারে।

বিইআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘৩ জুন বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে  পারে। এখনই চূড়ান্ত হয়নি। তবে ৩ জুন না হলে ৪ জুন অবশ্যই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসবে। তবে ৩ জুনই ঘোষণা আসার সম্ভাবনা বেশি। নতুন যে দাম বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে তা চলতি জুন থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে। কত শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হবে সে হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’ তিনি আরও জানান, লাইফলাইন গ্রাহক বা দরিদ্রদের জন্য এবার বিদ্যুৎ বিলের স্ল্যাবে কোনো পরিবর্তন না হলেও বিদ্যুতের সামান্য বাড়তি বিল এই গ্রাহকদেরও বহন করতে হতে পারে।

জানা যায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তানুযায়ী বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। দাম নির্ধারণে দুই মাস আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই কমিটি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। এতে বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী বিইআরসির মাধ্যমে যেন বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। বিইআরসি ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য গণশুনানির আয়োজন করে। এ শুনানিতে দেশের ছয়টি বিতরণ কোম্পানি বিদ্যুতের খুচরা মূল্য প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। শুনানিতে গ্রাহকদের প্রতিনিধিরা জানান, বিদ্যুৎ খাতে প্রচুর অনিয়ম-দুর্নীতি আছে। সেগুলো বন্ধ না করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিম্ন এবং মধ্যবিত্তের পকেট কাটার ফন্দি। এ মুহূর্তে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। তাই কোনোভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না। বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৪ কোটি ২৫ লাখ ৭৪ হাজার ১২১। এর মধ্যে গরিব (লাইফলাইন) অর্থাৎ শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এমন গ্রাহক ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০ জন। বিইআরসির কাছে দেওয়া প্রস্তাবে পিডিবি তার খুচরা গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। তবে বিইআরসির কারিগরি দল সুপারিশ করেছে বিতরণ কোম্পানির বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে। এবার ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের কম দাম বাড়ানো হবে বিদ্যুতের। এরপর ২০০ থেকে ৪০০ এবং ৪০০ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে। বেশি দাম বাড়ানো হবে ৬০০ ইউনিটের ওপরের গ্রাহকদের। সব মিলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবির ভর্তুকির বোঝা কমিয়ে সংস্থাটির বার্ষিক আয় বৃদ্ধির জন্য এবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পিডিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৬-২৭ সালে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করায় সংস্থাটির ৬৫ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে। এর মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দেবে পিডিবি। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে। এর পরও সংস্থাটির বড় ঘাটতি থেকে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *