পরপর দুই ম্যাচে দাপুটে জয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচ বাকি রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচেই পেস বোলিংয়ে আগুন ঝরিয়েছেন নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদরা। সিরিজ নিশ্চিতের পর তাসকিন বলেই দিলেন, ভালো উইকেটে খেলেই জিতেছে বাংলাদেশ।
কয়েক বছর আগেও ঘরের মাঠে পুরোপুরি স্পিনবান্ধব উইকেট বানিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের চেষ্টা করত বাংলাদেশ। সেখান থেকে বেরিয়ে এখন নিয়মিতই স্পোর্টিং উইকেটে খেলা শুরু করেছে তারা। যেখানে পেস-স্পিনের যুগলবন্দীতে মিলছে সাফল্যও।
ভালো উইকেট পেয়ে পেসাররাও জানান দিচ্ছেন নিজেদের সামর্থ্য। পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ডের পর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সিরিজ জয়ে অগ্রণী ভূমিকা নাহিদ রানা, তাসকিন, মুস্তাফিজদের।
বিশেষ করে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তো ইতিহাসেরই অংশ হয়ে গেছেন তাসকিন ও মুস্তাফিজ। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথমবার শূন্য রানে প্রথম ৩ উইকেট তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের এই দুই পেসার। আর ম্যাচে দুজন মিলে ৩টি করে মোট ৬ উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং।
ভালো উইকেটে এমন পারফরম্যান্সের পর আনন্দের শেষ নেই তাসকিনের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অভিজ্ঞ পেসার বললেন, ভালো উইকেটে খেলে জয় পাওয়ায় এটি তার কাছে বড় অর্জন।
“আলহামদুলিল্লাহ, এটা (শূন্য রানে ৩ উইকেট) দুর্দান্ত অনুভূতি। আসলে খুবই ভালো লাগছে। আমরা তো আসলে মাঠে ছিলাম, ওইভাবে অত কিছু দেখার সুযোগ হয় নাই। প্রত্যেকটা ওভারই নতুন করে শুরু হয়। চেষ্টা করেছি সবাই মিলে যত দ্রুত শেষ করা যায়। পরের দিকে ওদের আবার জুটি হয়েছে, আবার শেষ হয়েছে।”
“তো এটা একটা দুর্দান্ত অনুভূতি যে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভালো হচ্ছে। এবার কেউ উইকেট নিয়েও কিছু বলতে পারবে না। ভালো উইকেটে খেলতেছি, এমন না যে ধানক্ষেত। ঠিক আছে? আমরা ভালো উইকেটে খেলছি, ভালো টিমের সাথে জিততেছি। সো ইটস এ গ্রেট অ্যাচিভমেন্ট।”
এসময় নিয়মিত ভালো উইকেটে খেলার দীর্ঘমেয়াদি সুফলের কথাও বলেন ৩১ বছর বয়সী পেসার।
“দল হিসেবে গত বছরখানেক ধরে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। ভালো উইকেটে, ভালো কন্ডিশনে এগিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্য কিন্তু একটাই, বড় টুর্নামেন্টগুলোতে আমাদের ভালো ফলাফল করা। এটা এখনও সেভাবে হয়নি।”
“এজন্যই আমাদের বোর্ড ও ক্রিকেটার সবাই মিলে যেটা চাচ্ছে, ভালো কন্ডিশনে খেলে খেলে আমাদের স্কিল উন্নত করা, মানিয়ে নেওয়া। অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকা- যখনই যেখানে খেলা হবে, উইকেটে বাড়তি বাউন্স থাকবে, তখন কিছুটা হলেও মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে।”

