মুক্তি পেতে যাচ্ছে দক্ষিণ ভারতের তারকা অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর নতুন সিনেমা ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’। সিনেমাটির প্রচারণা নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। এর মধ্যেই এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবন, তারকাখ্যাতি এবং অসুস্থতার কারণে নেওয়া বিরতি নিয়ে কথা বলেছেন সামান্থা। জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে পাওয়া সাফল্য তাঁর চিন্তাভাবনা ও জীবনকে অনেকটাই বদলে দিয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে সামান্থা জানান, ভারতের ছোট্ট একটি শহর থেকে উঠে আসা একজন মেয়ে হিসেবে হঠাৎ তারকাখ্যাতি তাঁর কাছে বিস্ময়কর ছিল। জনপ্রিয়তা, দর্শকদের ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাস—এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘তারকাখ্যাতির খেলায় আমি আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম।’
সামান্থা আরও বলেন, ‘এক বছরে টানা পাঁচটি ছবিতে অভিনয় করেছিলাম এবং সব কটিই সফল হয়েছিল। তখন অনেকেই আমাকে “গোল্ডেন লেগ” বলে অভিহিত করতেন। সেই সময় মনে করতাম, দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতেই হবে।’
অভিনেত্রী জানান, সাম্প্রতিক বিরতির আগে তিনি সব সময় কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, সব সময় আরও বেশি সিনেমা করতে চাইতেন। তিনি কখনো ভাবেননি যে অভিনয়জীবনেরও একটি শেষ থাকতে পারে। তবে সেই বিরতি তাঁকে নিজের সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।
সামান্থা বলেন, ‘একজন অভিনেতা যখন সাফল্যের মধ্যে থাকেন, তখন মনে হয় এই যাত্রা কখনো শেষ হবে না। কিন্তু অসুস্থতার কারণে বিরতি নেওয়ার পর বুঝতে পেরেছি, অভিনয়জীবনেরও একটা শেষ আছে। এই উপলব্ধি আমার চিন্তাভাবনা ও জীবনদৃষ্টিতে অনেক পরিবর্তন এনেছে।’ তিনি জানান, বিরতির সময় তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে অভিনয়ে ফিরলে অনেক পুরোনো অভ্যাস ও কাজের ধারা পরিবর্তন করবেন।
২০২২ সালের অক্টোবরে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সামান্থা জানান, তিনি মায়োসাইটিস নামের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তখন তিনি লিখেছিলেন, রোগটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করলেও সুস্থ হতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগছে। এ সময় কাজ থেকে কিছুটা বিরতি নেন তিনি।
সামান্থার নতুন ছবি ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’ পরিচালনা করেছেন নন্দিনী রেড্ডি। ২০১৯ সালের সফল ছবি ‘ওহ! বেবি’র পর এই ছবিতে আবারও একসঙ্গে কাজ করেছেন পরিচালক ও সামান্থা। পারিবারিক অ্যাকশন-কমেডি ঘরানার ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন রাজ নিদিমোরু ও বসন্ত মারিঙ্গান্তি। প্রথমে ১৪ মে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও পোস্ট-প্রোডাকশন ও প্রচারণার কারণে ছবিটির মুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হয়। এটি ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

