২৫ জুন ২০২৬, বৃহঃ

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউটে গেল ব্রাজিল

ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিন ম্যাচে চার গোল করে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ফর্মে রয়েছেন।
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে শেষ হওয়া ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। তাদের অন্য গোলদাতা মাতেউস কুনিয়া।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের শেষ গ্রুপ ম্যাচে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস। তবে ম্যাচে তার আরও একটি গোল বাতিল করা হয়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বল দখল করে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে সামান্য স্পর্শ করার পর গোল করলেও সেটি গ্রহণযোগ্য ধরা হয়নি। এরপরও পুরো ম্যাচজুড়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ভিনিসিয়ুস।

এ জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। শেষ বত্রিশে ৫ বারের চ্যাম্পিয়নদের সম্ভ্যাব্য প্রতিপক্ষ জাপান, নেদারল্যান্ডস কিংবা সুইডেন। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডকে শেষ ষোলোতে ওঠার জন্য সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর মধ্যে থাকার আশা নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে গোল ব্যবধানে মাইনাস তিন থাকায় তাদের সম্ভাবনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিন ম্যাচে চার গোল করা ভিনিসিয়ুসকে অনেকেই এবার তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় হিসেবে দেখছেন। এমনকি দুই বছর আগের পারফরম্যান্সের চেয়েও ভিনি বর্তমানে আরও বেশি দলের ভরসা হয়ে উঠেছে।

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ভিনিসিয়ুস নিজেকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আনচেলত্তি তাকে শুধু উইংয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় খেলাচ্ছেন। ফলে তিনি গোল করার আরও বেশি সুযোগ পাচ্ছেন এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে খেলছেন।

ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই স্কটিশ ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনার ভুল থেকে প্রথম গোলের সুযোগ তৈরি হয়। রায়ান বল কেড়ে নিয়ে ভিনিসিয়ুসকে পাস দেন এবং সেখান থেকেই গোল করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। পরে আরও একটি গোল বাতিল হয় তার। প্রথমার্ধের শেষে যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক গান অন্তত দুইবার নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে না দিলে ভিনিসিয়ুস হ্যাটট্রিক করতে পারতেন।

স্কটল্যান্ড পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের ওপর তেমন চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে স্কট ম্যাকটমিনের একটি হেডার ছিল তাদের উল্লেখযোগ্য আক্রমণ। এরপর ফার্গুসনের একটি শট ও ম্যাকটমিনের আরেকটি হেড ছাড়া বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দলটি।

অন্যদিকে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন কুনিয়া। ব্রুনো গিমারায়েসের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে গোলটি আসে। ফলে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।
ম্যাচের শেষ দিকে আনচেলত্তি মাঠে নামান নেইমারকে। এর মাধ্যমে ব্রাজিলিয়ান তারকা নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের রেকর্ডে নাম লেখান। দীর্ঘ ২ বছর ৮ মাস, অর্থাৎ ৯৮২ দিন পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন এবার নেইমার। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর ব্রাজিলের আর খেলা হয়নি সান্তোস তারকার। চোট, পুনর্বাসন আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে আবার ফুটবল মাঠে নামলেন তিনি।

শেষ দিকে আরও কিছু সুযোগ পেলেও স্কটল্যান্ডের গোলকিপারের দৃঢ়তায় গোল ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ব্রাজিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *