২৫ জুন ২০২৬, বৃহঃ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মেথির ব্যবহার

রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্লান্তি, বারবার পিপাসা পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, দুর্বল লাগা— এসবই হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ার লক্ষণ। সে কারণে অনেকেই ঘরোয়া উপায়ে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে থাকেন। আর এ তালিকায় আছে মেথি। মেথি দানা হোক কিংবা মেথি পাতা— দুটোই আপনার শরীরের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।
কারণ মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং এমন কিছু উপাদান, যা আপনার শরীরে শর্করা শোষণের গতি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। আর তাতে খাওয়ার পর খুব দ্রুত ব্লাড সুগার বাড়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

চলুন জানা যাক ব্লাড সুগার কমিয়ে রাখার কতকগুলো উপায়—

অনেকেই রাতে ১ থেকে ২ চা-চামচ মেথি দানা এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। সকালে খালি পেটে সেই পানি পান করেন। আবার কেউ কেউ ভেজানো মেথি দানাও চিবিয়ে খান। অনেকে মেথি পাতার রস কিংবা রান্না করা মেথি শাকও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখেন। ডাল, তরকারি, পরোটা কিংবা রুটির সঙ্গে মেথি পাতা খান। আর মেথি আপনার শরীরে ইনসুলিনের কাজকে কিছুটা ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ফলে যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি সহায়ক হতে পারে। তবে এখানে একটি বিষয় ভীষণ জানা জরুরি। শুধু মেথি খেলেই সাত দিনের মধ্যে ব্লাড সুগার পুরো নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়; এটি কোনো ম্যাজিক চিকিৎসা নয়। সুতরাং ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দরকার নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাবার, কম চিনি, কম তেল-মসলা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ। তাই মেথি শুধু একটি সহায়ক উপায় হতে পারে মাত্র।

যারা আগে থেকেই ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে বেশি মেথি খেলে রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খুব বেশি পরিমাণে মেথি খাওয়া উচিত নয়। গর্ভবতী নারী কিংবা অন্য কোনো গুরুতর অসুস্থতা থাকলেও সতর্ক থাকা জরুরি।

সুতরাং শুধু ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা না করে নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতন জীবনযাপনই হওয়া উচিত আসল পথ। সে জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *