27 Jun 2026, Sat

দীর্ঘমেয়াদে বিষণ্নতার ওষুধ ব্যবহার নিয়ে চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

বিশ্বজুড়ে বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩৩ কোটিরও বেশি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ প্রতিদিন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ সেবন করেন। তবে নতুন এক গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদে এসব ওষুধ ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট সেবনের উপকারিতা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ওষুধ বন্ধ করার সময় গুরুতর প্রত্যাহারজনিত (উইথড্রয়াল) উপসর্গ দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহারের হার পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে অনেক রোগী বছরের পর বছর এসব ওষুধ সেবন করে থাকেন।

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো, মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামের রাসায়নিক বার্তাবাহকের ঘাটতি পূরণ করেই অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ কাজ করে। তবে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে। গবেষকদের মতে, প্রচলিত অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে আগের তত্ত্বগুলো নতুন প্রমাণের আলোকে পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
এ গবেষণার ফলাফল চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মধ্যে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ওষুধ বন্ধে গুরুতর উপসর্গের শঙ্কা

গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট সেবনের পর হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলে অনেকের ক্ষেত্রে তীব্র ও কষ্টদায়ক প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি গুরুতর এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যা রোগীদের জন্য ওষুধ বন্ধ করা কঠিন করে তোলে।

তাই বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ করে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বন্ধ না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

গবেষণার আলোকে চিকিৎসকদের প্রতি রোগীদের চিকিৎসা পরিকল্পনা নিয়মিত পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, অন্তত প্রতি ছয় মাস অন্তর অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা উচিত। এতে চিকিৎসার সম্ভাব্য সুফল ও ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে রোগীদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সূত্র: সামা অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *